kalerkantho


শ্রীনগর

শিক্ষকের পিটুনিতে ঢলে পড়ল ছাত্র

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার জশুরগাঁও আরডি বিদ্যানিকেতনে এক শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থী ইয়াছিনকে (৯) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালে গণিত শিক্ষক জিনিয়া আক্তার ছাত্র ইয়াছিন অঙ্ক করেছে কি না জানতে চান। ইয়াছিন অঙ্ক করতে পারেনি বলে জানায়। তখন ওই শিক্ষিকা উত্তেজিত হয়ে ইয়াছিনকে ‘ফকিরের বাচ্চা’, ‘টোকাইর বাচ্চা’সহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন। ইয়াছিন ভয়ে চুপ মেরে যায়। পরে জিনিয়া বেত দিয়ে শিশুটিকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। দুই সহপাঠী ইয়াছিনকে বাঁচাতে গেলে তাদেরও মেরে আহত করেন শিক্ষক। একপর্যায়ে ইয়াছিন মাটিতে ঢলে পড়ে। অবস্থা গুরুতর দেখে অন্য শিক্ষার্থী দৌড়ে ইয়াছিনের মাকে খবর দেয়। তার মা দৌড়ে বিদ্যালয়ে আসেন।

তিনি ছেলেকে এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ইয়াছিনের মা মাকসুদা বেগম কেঁদে বলেন, ‘আমার সন্তানকে বেত দিয়ে পেটানোর ছবি এক পথচারী মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। তখন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের স্বামী জিতেন দত্ত পথচারীর ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে আছড়ে ভেঙে ফেলেন। বিষয়টি কাউকে জানাতে বারণ করেন। জানালে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে পথচারীকে ভয় দেখান। ’

জানতে চাইলে আরডি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক রিনা দত্ত বলেন, ‘শিশুটিকে ছয়-সাতটি বেত্রাঘাত করা হয়েছে। ’

শিশু ইয়াছিনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ থাকলেও আরডি বিদ্যানিকেতনের মতো অনেক বিদ্যালয়ে এখনো কেন শিক্ষার্থীকে পেটানো হয়?

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসাইন খান বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর মা-বাবা নেই। এটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। ’

 


মন্তব্য