kalerkantho


এবার পাউবো কর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাকে এবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে মাটিচোরচক্র। পাউবো কর্মকর্তা এনায়েত করিম গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

গত মঙ্গলবার ‘সরকারি জমির মাটি ভাটায় বিক্রি, বেড়িবাঁধ ধসের শঙ্কা’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে। এর ভিত্তিতে পাউবো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান। মাটি কাটতে নিষেধ করায় এ চক্রের প্রধান কাইয়ুম, সুজন, সেরাজউদ্দিন, আলম, রশিদ ও সুলতান কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেন।

 

কর্মকর্তা এনায়েত করিম জানান, স্থানীয় একটি চক্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের জমির মাটি কেটে নিয়ে গেছে বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এ চক্রের কাইয়ুম, সুজন, সেরাজউদ্দিন, আলম, রশিদ, সুলতানসহ অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজন মিলে এনায়েত ও তাঁর দুই সহকর্মী সুদর্শন চন্দ্র দাস ও মোবারক হোসেনকে হত্যার হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা থানায় মামলা করলে তাঁদের হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। অভিযুক্তরা অবশ্য ঘটনা স্বীকার করেননি।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

আত্মসাতের অভিযোগ

ফারইস্টের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা ফারইস্ট ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (এফআইসিএল) বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক হাজার ২০০ গ্রাহকের ১৩ কোটি পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

দুদক জানায়, ফারইস্ট পরিচালনা কমিটি টাকা আত্মসাৎ করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ২০০৯ সালে শামীম কবির (সভাপতি), জাফর আহম্মদ (সহসভাপতি), এমদাদুল হক (সম্পাদক), মহিউদ্দিন (যুগ্ম সম্পাদক), ইমরানুল ইসলাম (কোষাধ্যক্ষ), দুলাল (সদস্য) এফআইসিএল ভুলতা শাখা চালু করেন। কর্মকর্তারা গ্রাহকদের এক লাখে দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং চার বছর পর আমানতের দ্বিগুণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি শামীম কবির গ্রাহকদের লভ্যাংশ না দিয়ে তাঁর লোকজনের সহায়তায় নিজ নামে নগদ বা ব্যাংকের মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করেন। কর্মকর্তারা নামমাত্র কয়েক মাস গ্রাহকদের লভ্যাংশ প্রদান করেন। কিছুদিন অফিস চালানোর পর কর্মকর্তারা আত্মগোপন করেন।

এফআইসিএল রূপগঞ্জের ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ অফিসে তিন মাস চাকরি করেছি। টাকা আত্মসাতের বিষয়টি মালিকপক্ষ শামীম কবির ও তাঁর সহযোগী নুরুজ্জামান, কামরুজ্জামান ভালো জানেন। ’


মন্তব্য