kalerkantho


রূপগঞ্জের দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মাদুর পেতে চলছে ক্লাস

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। শ্রেণিকক্ষ সংকট।

অগত্যা জরাজীর্ণ ভবনের ভেতর মাদুর পেতে চলছে ক্লাস। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের প্রথম ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর ২০০৭ সালে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়ে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ওই ভবনটি নির্মাণের ২০ বছর যেতেই সেটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পরও শিক্ষকরা ওই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৩২ শিক্ষার্থী ও সাতজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকই হতদরিদ্র। অভিভাবকদের অধিকাংশই শিল্প কারখানার শ্রমিক।

তাই অভিভাবকরা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের কম খরচের বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও তাঁরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়টিতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের অস্বাস্থ্যকর পানি পান করতে হচ্ছে। এতে তারা বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানোর পর তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি ও ছাদের মূল অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়েই ভবনের ভেতর পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া বিদ্যালয়টিতে বাউন্ডারি না থাকায় শ্রেণিকক্ষের ফ্যান, জানালা চুরি হয়ে গেছে।

হালিমা নামে এক অভিভাবক জানান, তিনি স্বল্প বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অভাবের সংসারে ছেলেকে ভালো স্কুলে পড়ানোর মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। তাঁর ছেলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় সময়ই শ্রেণিকক্ষে জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহেরুন্নেসা জানান, সবগুলো ভবনেই ফাটল ধরার কারণে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাতে হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়টিতে কোনো মানসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের আশপাশের মানুষের বাড়িতে গিয়ে টয়লেট করতে হয়। এ ছাড়া স্কুলের নির্দিষ্ট কোনো বাউন্ডারি না থাকায় বাইরের লোকজন সহজেই বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারে। তিনি জানান, ওপর মহলের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি প্রত্যেক মাসে দুইবার করে পরিদর্শন করে যান। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলীম বলেন, ভবনগুলো ফাটল ধরায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ওপর মহলের কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকবার জানানো হলেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি বিউটি আক্তার বলেন, ব্যাপারটি কয়েকবার উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর পরও এ ব্যাপারে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, নতুন ভবনের তালিকায় বিদ্যালয়টির নাম রয়েছে। অনুমোদন মিললে নতুন ভবন করা হবে। ইউএনও ফারহানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য