kalerkantho


নান্দাইলে দুই প্রাথমিকের পরিত্যক্ত ভবন

ঝুঁকি আর আতঙ্কের মধ্যে চলছে শিশুদের পাঠদান

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন প্রায় চার বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকেই বিদ্যালয় দুটির শিশুরা গাছতলায় পাঠ নিচ্ছে। আবার ঝুঁকি নিয়ে কোনো কোনো শ্রেণির পাঠদান চলছে পরিত্যক্ত ভবনেই। আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বিদ্যালয় দুটি হলো গাঙ্গাইল ইউনিয়নের বিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খারুয়া ইউনিয়নের হালিউরা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ধূলিমাখা আঙিনায় খেলাধুলা করছে। পাঠদানের সময় শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে খেলাধুলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুরা বলে, টিনের ছাপরা ঘরের নিচে পড়তে ভালো লাগে না। খুব গরম লাগে। সহকারী শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, সাড়ে তিন বছর আগে বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের গাছতলায় বসিয়ে পাঠদান করা হতো। গত বছর বিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা টাকা দিয়ে আঙিনার এক পাশে একটি ছাপরা ঘর নির্মাণ করা হয়।

সেই ছাপরা ঘরটি তিন ভাগে বিভক্ত করে তিনটি শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দুই পালায় পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আরেকজন সহকারী শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ঝুঁকি এড়াতে পরিত্যক্ত পাকা ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। শিক্ষিকা শারমীন আক্তার বলেন, শিক্ষকদের বসার কোনো স্থান নেই। তাই পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে তাঁরা বসছেন।

খারুয়া ইউনিয়নের হালিউরা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত। শতবর্ষী আধাপাকা ঘরের ওপর টিনের ছাউনি দেওয়া বিদ্যালয় ভবনটি জীর্ণ। টিনের চালার অবস্থা নড়বড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও হালিউরা গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, আসন্ন ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমে বিদ্যালয়টির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। ভবনটির এক কোণে শিক্ষকদের বসার স্থান। বাকি অংশে দুটি শ্রেণিকক্ষ। একটি কক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে এবং অন্যটিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বসানো হয়। শ্রেণিকক্ষের ভেতর আঁড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে দুটি ব্ল্যাকবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। হাত দিলেই বোর্ড দুলতে থাকে। ফলে স্থির না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে না বোর্ডে কী লেখা হয়েছে। আর প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের গাছতলায় বসিয়ে পাঠদান করা হয়।

হালিউরা সপ্রাবির স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. বাবুল সরকার বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থানের কারণে শিক্ষা বিভাগের দৃষ্টির আড়ালে থাকে বিদ্যালয়টি। ভবনের বেহাল পাঠদান ক্ষেত্রে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি সময়মতো খোলা হয় না বলে তিনি জানান।  

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিইও) আনারকলি নাজনীন বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন ও অবকাঠামোগতসংক্রান্ত সব তথ্য আমরা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠিয়ে থাকি। উল্লিখিত দুটি বিদ্যালয়ের তথ্যও পাঠানো হয়েছে। ’


মন্তব্য