kalerkantho


ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ স্কুল

প্রধান শিক্ষক নিয়ে জটিলতা চার মাস বেতন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহ শহরের জেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল থাকা-না থাকা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে সপ্তাহ ধরে পাঠদান প্রায় বন্ধ রয়েছে।

স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরাও চার মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না। ক্লাস না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান মিয়ার চাকরির মেয়াদ গত বছর ২৪ মার্চ শেষ হয়। এর আগেই ফজলুর রহমান তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। ঢাকা বোর্ড কর্তৃপক্ষ আইনগতভাবে প্রধান শিক্ষকের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে অবহিত করে। একই সঙ্গে বোর্ড ১৫ কার্যদিবসের মাঝে স্কুলের দায়িত্ব সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়।

এদিকে বোর্ডের এমন নির্দেশনা পেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান। আবার নতুন এক পরিচালনা কমিটি গঠন হওয়ায় গত বছর অক্টোবর মাসে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আরেকটি রিট করেন অভিভাবক প্রতিনিধি মোসলম উদ্দিন। উচ্চ আদালত নতুন পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।

সব মিলিয়ে পাল্টাপাল্টি রিট, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের কারণে স্কুলের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে চরম অচলাবস্থা দেখা দেয়। ফলে আইনগত জটিলতার কারণে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। ওই প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে কোনো বেতন-ভাতা উত্তোলনের কাগজে স্বাক্ষর দিচ্ছে না জেলা শিক্ষা অফিস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, স্কুলে ১৫ জন এমপিওভুক্ত কর্মচারী আছেন। এ ছাড়া খণ্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মচারী আছেন ১৭ জন। তাঁরা গত নভেম্বর মাস থেকে বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে এবং সমস্যার সমাধান না হওয়ায় স্কুলের শিক্ষকরা এ বছর মার্চ মাসের ৭ তারিখ থেকে আন্দোলনে নেমেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা প্রতিদিন দুটি ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষকই বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেছেন। তাই তাঁরা চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তাঁরা এখন কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান মিয়া বলেন, ‘উচ্চ আদালতে রিট করেছি। এখন বিষয়টি আদালতই সমাধান দেবেন। ’  স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম রতন বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতনের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। যেভাবে স্কুলটিতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, এতে স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যাবে। ’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার কারণে বিষয়টি জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে শিক্ষকদের বেতন উত্তোলনের জন্য তাঁরা সহকারী প্রধান শিক্ষকের ওপর দায়িত্ব দিচ্ছেন। এতে সমস্যার আপাত সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ’


মন্তব্য