kalerkantho


হোতা এমপি রানার সহযোগী মোর্শেদ

টাঙ্গাইলে দুই যুবলীগ নেতা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



টাঙ্গাইলে দুই যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা এবং তাদের লাশ গুমের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগি যুবলীগ নেতা ও তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী মোর্শেদ তার বাহিনী নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বীকারোক্তি প্রদানকারী আসামিরা হল শাহাদত হোসেন ওরফে সাধু (৪৫) ও খন্দকার জাহিদুল ইসলাম (৩৮)। এদের মধ্যে সাধু গতকাল বৃহস্পতিবার এবং জাহিদুল গত শনিবার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতের বিচারক রুপম কান্তি দাশ তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। গত ১০ মার্চ জাহিদুলকে এবং ১৫ মার্চ সাধুকে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মোহাম্মদ শামীম (২৮) এবং মামুন মিয়া (২৫) ২০১২ সালের ১৬ জুলাই সকালে বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরের উদ্দেশ্যে বের হন। এর পর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিখোঁজ শামীমের মা আছিয়া খাতুন বাদি হয়ে পরদিন ১৭ জুলাই টাঙ্গাইল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আসামি জাহিদুল ও শাহাদত জবানবন্দিতে জানিয়েছে, মামুন ও শামীম হত্যার কিছুদিন আগে সংসদ সদস্য আমানুর খান রানার ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন তার অফিসে তাদের সহযোগী মোর্শেদ, স্বপন, জাহিদ, সবুজসহ কয়েকজনকে ডেকে নেন।

সেখানে জাহিদুর খান তাদেরকে পাঁচ লাখ টাকা এবং একটি রিভলবার দিয়ে বেতকা এলাকার আহমেদুল হক শাতিল নামের একজনকে হত্যার হুকুম দেন। হত্যার কাজে প্রয়োজনীয় আরো টাকা ও অস্ত্র মোর্শেদকে যোগান দিতে বলেন। পরে মোর্শেদ জাহিদুর খানের কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়ে মামুন ও শামীমকে ডেকে আনেন শাতিলকে হত্যার জন্য। এই হত্যার জন্য দু’টি মোটরসাইকেল, সাত লাখ টাকা ও দু’টি রিভলবার দেওয়া হয় মামুন ও শামীমকে। কিন্তু মামুন ও শামীম দুজনই শাতিলকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়। পরে তাদের দুজনকেই মোর্শেদের অফিসে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় এবং লাশ বাসাইলের নথখোলায় নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিখোঁজ মামুনের বাবা আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলায় মোর্শেদসহ তার দলের ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি রেকর্ড করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি অশোক কুমার সিংহ জানান, এ মামলার এজাহারভূক্ত আসামি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম এবং শাহাদত হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে দু’জনেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।


মন্তব্য