kalerkantho


সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারচেষ্টা

চিৎকার করে রক্ষা পেল তিন তরুণী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যশোর বিমানবন্দর দিয়ে ওমানে পাঠানোর কথা। কিন্তু ভারতে পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল সীমান্তে। চিৎকার করায় স্থানীয় জনতা তাদের উদ্ধার করে।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দমদম বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার ও পাঁচ সন্দেহভাজন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় দুটি প্রাইভেট কার।

আটকরা হলেন নেয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার আলায়ারপুর গ্রামের গোলাম কবিরের ছেলে সাকেরুল কবির ওরফে ইকবাল, নারায়াণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার বারদি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে সুমন, ঢাকার শাহজাহানপুর থানার শান্তিবাগের আক্তারী কামালের ছেলে হাবিবুল্লাহ, শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানার কানাইকাটি গ্রামের লালচান মিয়ার ছেলে আক্কাস আলী বাবু ও দেলওয়ার হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন।

উদ্ধার হওয়া তিন তরুণী হলো চট্টগ্রামের বায়েজীদ থানার একটি ভাড়া বাসার বাসিন্দা। তাদের একজন কুমিল্লার বুড়িচং থানার এবং দুজন ফেনীর সোনাগাজী থানার বাসিন্দা। এদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।

উদ্ধার হওয়া এক তরুণী জানান, তারা তিনজন কম বেতনে চট্টগ্রামের ফোর এস গার্মেন্টে চাকরি করে।

দুই মাস আগে সাকেরুল কবির ওরফে ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান ওরফে সুমনের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে দুজন তাদের তিনজনকে ওমানে নিয়ে বেশি বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। মাথাপিছু ৪০ হাজার করে টাকা নিয়ে গত ১৫ মার্চ রাতে যশোর বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে।

যশোরে আসার পর যুবকরা তিনজনকে কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। বিষয়টি তাদের সন্দেহ হয়।

আরেক তরুণী জানায়, যশোর যাওয়ার পর পাচারকারীরা বিমানবন্দরে না নিয়ে দুটি প্রাইভেট কারে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় পাচারকারীরা আলাপ করে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থানার বেতছড়ি গ্রামের নূর আলম ও খলিলুর রহমান কক্সবাজারের রামু থানার ইদগড় গ্রামের তৈমুরদের বিরুদ্ধে নারী পাচারের মামলা করবে। এতে তাঁদের সন্দেহ হলে তাঁরা দমদম বাজারে পৌঁছার পর চিৎকার করেন। এ সময় বাজারের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক শেখ বলেন, ‘এ বিষয়ে নাহিদা বেগম কলারোয়া থানায় এমটি মামলা করেছেন। জব্দ করা হয়েছে দুটি প্রাইভেট কার। উদ্ধার হওয়া তিন তরুণীকে সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ নামের একটি সংস্থার হেফাজতে রাখা হয়েছে।

সংস্থাটির কর্মী শাহনারা খাতুন বলেন, ‘তিন তরুণীকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের খবর পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আসার পর তরুণীদের নিরাপদে নিজ গ্রামে ফেরত পাঠানো হবে। ’


মন্তব্য