kalerkantho


শরীফুলের বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শরীফুলের বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র

শরীফুল ইসলাম

পারদ ও চুম্বক শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উত্পাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শরীফুল ইসলাম নামের এক যুবক। তিনি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার বাসিরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. আনোয়ার হোসেন ভাষানী।

এদিকে এলাকা ছেড়ে কেরানীগঞ্জে এসে নিজের আবিষ্কার তুলে ধরার কারণ জানতে চাইলে শরীফুল জানান, তাঁর মামার বন্ধু কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। নিজের আবিষ্কারটি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনার লক্ষ্যে শরীফুল নিজের এলাকা ছেড়ে কেরানীগঞ্জে এসে তাঁর আবিষ্কারটি তুলে ধরেন।

শরীফুল জানান, দীর্ঘদিন গবেষণার পর এ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। যার নাম দিয়েছেন তিনি ‘ফ্রি এনার্জি ম্যাগনেটিক পাওয়ার’। শরীফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর যন্ত্রের ভেতরে শুধু পারদ ও চু্ম্বক ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই চুম্বক থেকে প্রতিদিন ৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন করা সম্ভব, যা দিয়ে একটি ফ্রিজ, একটি টিভি, দুটি ফ্যান ও তিনটি বাতি জ্বালানো যায়। যন্ত্রটি তৈরিতে খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকার মতো।

শরীফুল জানান, একবার যন্ত্রটি চালু করা হলে ৩০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যাবে। পরে তিনি রাজেন্দ্রপুর মনোয়ারা কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ উত্পাদন করে টেলিভিশন ও কয়েকটি বাতি জ্বালিয়ে দেখান। এ সময় শত শত লোক শরীফুলের উত্পাদিত বিদ্যুৎ দেখার জন্য ভিড় জমায়।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ বলেন, ‘শরীফুলের আবিষ্কৃত যন্ত্রটি দিয়ে বিদ্যুৎ উত্পন্ন হচ্ছে। আমরা টিভি ও বাতি জ্বালিয়ে এর প্রমাণ পেয়েছি। আশা করি, সরকার শরীফুলের এ আবিষ্কারকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে। তাতে আবিষ্কারটি দিয়ে বিশ্বে যেমন তাক লাগানো যাবে, তেমনি বাণিজ্যিকভাবেও সাফল্য পাওয়া যাবে। ’

শরীফুল ইসলাম জানান, অভাব-অনটনের কারণে তিনি বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেননি। জীবিকার তাগিদে ২০০৩ সালে একটি ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরির কারখানায় কাজ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যান। পথঘাট ও ভাষা না জানায় তাকে কারখানায় বসে থাকতে হতো। বসে বসে চিন্তা করতেন কী করা যায়। ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রিক কাজে আগ্রহ ছিল তাঁর। একসময় মাথায় ঢোকে কিভাবে অন্য উপায়ে বিদ্যুৎ উত্পাদন করা যায়। তখন থেকেই তাঁর গবেষণা শুরু হয়। কিন্তু চার মাসের মাথায় তাঁকে দেশে চলে আসতে হয়। তাতে তিনি দমে না গিয়ে গবেষণা চালিয়ে যান। পারিবারিক অনটন মেটাতে ২০০৭ সালে মালয়েশিয়া যান তিনি। সেখানে কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাঁর গবেষণা চলে। তিনি অনেক সময় বিদেশি ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারদের সহযোগিতাও নিয়েছেন। এরপর ২০১৫ সালে দেশে এসে পুরো মাত্রায় গবেষণা শুরু করেন। একপর্যায়ে চুম্বক ও পারদ থেকে বিদ্যুৎ উত্পাদন করতে সমর্থ হন তিনি। প্রথমদিকে তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রটি দিয়ে ১৬০ ওয়াট বিদ্যুৎ উত্পন্ন করা যেত। বর্তমানে ৯০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উত্পন্ন করা যাচ্ছে। শরীফুল বলেন, যন্ত্রটি তৈরি করতে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে, যা থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত টানা বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে যন্ত্রটি বাজারজাত করার ইচ্ছে আছে তাঁর।


মন্তব্য