kalerkantho


শ্বশুরবাড়ি যেতে ফোন করেছিলেন শ্বশুর

বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রাণ গেল ‘বন্ধু’র

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তাঁর নাম সলেমান সেখ (৩৫)। সহজ-সরল স্বভাব ও কথাবার্তার জন্য এলাকার মানুষ তাঁকে ‘বন্ধু’ নামে ডাকে। এলাকাবাসী আর সেই বন্ধুর দেখা পাবে না। গতকাল বুধবার তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সলেমান রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়িয়া গ্রামের কুতুব সেখের ছেলে।

সলেমানের স্বজন, এলাকাবাসী ও থানার পুলিশ জানায়, কৃষিকাজ সলেমানের পেশা। তিনি সহযোগী শ্রমিক, এলাকার শিশু, ছেলে, বুড়ো—সবার সঙ্গে হাসি-খুশিভাবে মিশতেন। তাদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতেন। এ কারণে এলাকাবাসী সলেমানকে ‘বন্ধু’ ডাকত। এই বন্ধু অনেকটা ঘটা করে সাত মাস আগে একই উপজেলার মোহনপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাসের মেয়ে সাহানা বেগমকে (১৮) বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েক মাস না গড়াতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।

কলহের কারণে তিন দিন আগে সাহানা বাবার বাড়ি চলে যান।

সলেমানের ভাতিজা ও রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুদ করিম সেখ জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে সলেমান শ্বশুর সাঈদ বিশ্বাসের ফোন পেয়ে শ্বশুরবাড়ি যান। এর পর থেকে তাঁর মুঠোফোনটি ছিল বন্ধ। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁকে। গতকাল দুপুরে তাঁর বাড়ি থেকে এক হাজার গজ দূরে সুবাহানের গমক্ষেতে সলেমানের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি কালুখালী থানায় ও সলেমানের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানানো হয়। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে সলেমানের স্ত্রীসহ কেউ গতকাল বিকেল পর্যন্ত আসেনি। করিম সেখ দাবি করেন, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের জেরে সলেমানকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সলেমানের শ্বশুববাড়ির কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালুখালী থানার ওসি নুরে আলম ফকির জানান, সলেমানের মাথা ও কানের পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর ধারণা, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও সলেমানকে হত্যার পর ওই গমক্ষেতে ফেলে মুখে কীটনাশক ঢেলে দেয়। বিকেলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সলেমানের লাশ পাওয়ার খবরে স্বজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সলেমানের মা সবেলা বেগমের কান্না কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছিল না। তাঁর আহাজারিতে উপস্থিত সবার অশ্রু ঝরছিল। সবেলা বারবার বলছিলেন, ‘আমার সলেমানরে তোমরা আইনা দেও। ও একটা সাদামাঠা মানুষ। ওর কোনো শত্রু নাই। ও কারো কোনোদিন ক্ষতি করে নাই। আমার সহজ-সরল পোলাডারে ওরা মাইরা ফলাইছে। আমি ওগোর শাস্তি চাই। ’


মন্তব্য