kalerkantho


রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল

এমডির বিরুদ্ধে শ্রমিক কর্মচারীদের বিক্ষোভ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শ্যামপুর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে মিল চত্বরের গাছ কেটে আসবাবপত্র বানিয়ে গোপনে ঢাকায় নিজের বাসায় পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতের এ ঘটনায় মিলের শত শত শ্রমিক-কর্মচারী গতকাল বুধবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ রেখে তাঁর অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে।

তবে তিনি দাবি করেন, নিজে কাঠ কিনে তিনি ওই আসবাবপত্র বানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ঢাকায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিএমআইসি প্রধান কার্যালয়ে চিনিকলের একটি ট্রাকে করে চিনি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় মিলের ফটকে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ট্রাকের চালক আব্বাস আলীর কাছে গেট পাস ও চালান দেখতে চান। ট্রাকের চালক তা দেখাতে গড়িমসি করেন। পরে চিনির বস্তা সরিয়ে সেখানে কাগজে মোড়ানো অনেক আসবাবপত্র পাওয়া যায়। কর্তব্যরত পাহারাদার আসবাবপত্রের চালান দেখতে চাইলে চালক তা দেখাতে ব্যর্থ হয়ে বলেন, ‘এসব মালামাল এমডি স্যারের নির্দেশে ঢাকায় তাঁর বাসায় নেওয়া হচ্ছে। ’ এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক-কর্মচারীরা সেখানে জড়ো হয়। এ সময় ট্রাকে চিনির বস্তার সঙ্গে ২৪টি চেয়ার, দুটি ছোট-বড় টেবিল, একটি ওয়ার্ডরোব, দুটি বক্স খাট, এক সেট সোফা, দুটি গোলটেবিল ও একটি ড্রেসিং টেবিল পাওয়া যায়।

ওই ঘটনায় পরে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্যামপুর সুগার মিল চত্বরে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।

এ সময় তারা এমডির বাসভবন ঘেরাও করে তাঁর অপসারণ দাবি করে। এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর জানতে পেয়ে নিজ বাসভবন থেকে সটকে পড়েন এমডি আবুল কালাম আজাদ।

শ্যামপুর সুগার মিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সহসম্পাদক শশাঙ্ক বর্মণ রায় বলেন, বর্তমান এমডি এখানে আসার পর থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। অবসরে যাওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে তিনি উেকাচ নেন। টাকা ছাড়া তাঁর কাছ থেকে কোনো কাজ আদায় করা যায় না।

শ্যামপুর সুগার মিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি খতিবুর রহমান বলেন, এমডি এখানে আসার পর একে একে মিল চত্বরের ২০টি গাছ কেটে সাবাড় করেছেন। প্রায় ১০ লাখ টাকার ফার্নিচার বানিয়ে ঢাকায় তাঁর বাভবনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

তবে মিল চত্বরের কোনো গাছ কাটা হয়নি দাবি করে শ্যামপুর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবুল

কালাম আজাদ বলেন, ‘বিভিন্ন স মিল থেকে কাঠ কিনে আসবাবপত্র তৈরি করেছি। এ বাবদ কাঠ মিস্ত্রিকেই দিয়েছি ২৯ হাজার টাকা। একটি মহল আমার সুনাম নষ্ট করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখানে যোগদানের পর মিলটিকে ভালো করার চেষ্টা করছিলাম; কিন্তু একটি মহল তা মেনে নিতে পারছে না। ’


মন্তব্য