kalerkantho


মিরসরাইয়ে গ্রেনেড উদ্ধার

জঙ্গিদের সামরিক প্রশিক্ষক সাগরকে খুঁজছে পুলিশ

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গিদের সামরিক প্রশিক্ষক সাগরকে খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় জঙ্গিদের গোপন আস্তানা থেকে গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধারের পর এখন তাদের সমন্বয়ক, সামরিক প্রশিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান ও বোমা তৈরির কারিগরকে খুঁজছে পুলিশ। একই সঙ্গে হাদিসুর রহমান সাগর নামের একজনের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দারা, যাকে এর আগে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।  

এই সাগরসহ চারজনের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন কুমিল্লায় আটক জঙ্গি মো. হাসান। এর মধ্যে সাগরকে সামরিক কমান্ডার বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। মিরসরাইয়ে দায়ের করা গ্রেনেড উদ্ধার মামলার এজাহারে এ বিষয়টি রয়েছে।

কুমিল্লায় পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় মো. হাসান (২৪) ও জহিরুল ইসলাম ওরফে জসীমকে (১৯) আটকের পর পুলিশ মিরসরাইয়ের এই আস্তানার খোঁজ পায়।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভায় জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানান, পুলিশ জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ক মুছাকে খুঁজছে। তাকে পাওয়া গেলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। তবে তিনি মুছা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কুমিল্লায় আটক হাসান জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে কয়েকজনের নাম বলেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে ময়নুল হোসেন মুছা (৩০), সামরিক প্রশিক্ষকের দায়িত্বে আছে হাদিসুর রহমান সাগর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছে মোশাররফ হোসেন (৩০) ও বোমা তৈরির কারিগরের দায়িত্ব পালন করে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা নসরুল্লাহ (৩০)।

এ ছাড়া হাসান তার পরিচিত দুজন সদস্যের নামও প্রকাশ করেছে। তারা হলো ফরহাদ ও মনির।

হাসানের কাছ থেকে জঙ্গিদের এ শীর্ষ নেতাদের নাম পাওয়ার পরও সেগুলোকে সঠিক হিসেবে ধরে নিতে চাইছেন না পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এমনকি জঙ্গি সংগঠনটির নামও এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি বলে তাঁরা দাবি করছেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, জঙ্গিরা নিজের প্রকৃত নাম পরিচয় গোপন রাখে। ছদ্মনাম ব্যবহার করে। এই কারণে হাসানের প্রকাশ করা নামগুলোই যে জঙ্গি নেতাদের প্রকৃত নাম, সেটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে তদন্ত করে অবশ্যই জঙ্গিদের প্রকৃত নাম ও ঠিকানা বের করা হবে।

চট্টগ্রামে একসময় কর্মরত ছিলেন এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, হাসান যে চার জঙ্গি নেতার নাম প্রকাশ করেছে, সেগুলো নতুন। অতীতে চট্টগ্রাম এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছিল এমন জঙ্গিদের মুখে নামগুলো শোনা যায়নি। কিন্তু এটা বিস্ময়কর কিছু নয়। নিত্যনতুন ছদ্মনাম ধারণ করেই জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালায়। তবে এটা ঠিক, হাসানের প্রকাশ করা একটি নামে মিল পাওয়া যায়। সেটি সামরিক প্রশিক্ষক সাগর। হাসান ‘সামরিক কমান্ডার’ হিসেবে হাদিসুর রহমান ওরফে সাগরের নাম প্রকাশ করেছে।

এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, পুলিশ বিভাগ সারা দেশের জঙ্গিদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছিল। জেএমবিসহ দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর গ্রেপ্তারকৃত কিংবা পলাতক সদস্য ও মামলার তথ্য নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর এ তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকায় সাগর নামের একজনের নামের পাশে ‘সামরিক প্রশিক্ষক’ লেখা আছে।

এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলায় আবু ইউসুফ ওরফে সাগর নামের এক আসামির নাম আছে। জেএমবি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এই দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই দুই মামলায় আবু ইউসুফ সাগরকে সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, গত বছরের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, তখন দুই মামলার মধ্যে একটি বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় জামিনে ছিলেন সাগর। কিন্তু দুই মামলার বর্তমান অবস্থা কী এবং সাগর কোথায় সেটা খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।


মন্তব্য