kalerkantho


মেলায় লটারির টিকিট বিক্রি

বড়াইগ্রামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নাটোর প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বস্ত্র ও কুটিরশিল্প মেলায় লটারির টিকিট বিক্রি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে লটারি বিক্রির সরঞ্জামাদি জব্দ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর আইনজীবী সমিতির এক সদস্য বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম আমলি আদালতে মামলা করলে বিচারক ওই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী আমেল খান চৌধুরী বাদী হয়ে ঢাকার ফ্যাশন কার্নিভাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামির প্রতিষ্ঠান হস্তশিল্প মেলার নামে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস মোড়ে কথিত মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় অশ্লীল নাচ-গানের পাশাপাশি অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে নানা রকম পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে এভাবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। লটারির টিকিট বিক্রির জন্য প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে শত শত অটোরিকশা চষে বেড়াচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বড় পর্দায় লটারির পুরস্কারপ্রাপ্তির ভিডিও দেখানো হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরাও টিকিট কেনার নেশায় মেতে উঠেছে।

বাদী আরো অভিযোগ করেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি বনপাড়ায় আসামির প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লটারির টিকিট বিক্রি বন্ধ করতে বললে আসামি প্রথমে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর কাছ থেকে আয়োজনের খরচ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। অভিযোগের ব্যাপারে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। বড়াইগ্রাম থানাকে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত লটারির টিকিট ও তা বিক্রির সরঞ্জামাদি জব্দ করারও নির্দেশ দেন। আদালতের পেশকার আতাউল গণি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বাদী আমেল খান চৌধুরী জানান, দেশের সংবিধানে ও দণ্ডবিধিতে লটারি অনুষ্ঠানকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অথচ আসামি প্রকাশ্যে দিনের পর দিন লটারির টিকিট বিক্রি করে যাচ্ছেন। এ কারণে তিনি জনস্বার্থে মামলাটি করেছেন। বড়াইগ্রাম থানার ওসি শাহরিয়ার খান জানান, এসংক্রান্ত আদালতের আদেশ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিনি হাতে পাননি। আদালতের নির্দেশ হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য