kalerkantho


কমিটি নিয়ে ‘সাপ-লুডু’ খেলা

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কমিটি নিয়ে ‘সাপ-লুডু’ খেলা

কোন্দল পিছু ছাড়ছে না টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির। বিএনপির অধিকাংশ সভা-সমাবেশে মারামারি, ধাক্কাধাক্কি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ঘটে। এ কারণে তিনবার তারিখ নির্ধারণ করেও শেষ পর্যন্ত জেলা সম্মেলন করা যায়নি। এখন কেন্দ্র নেতা বাছাই করে দেবে। তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ, কমিটি গঠন নিয়ে ‘সাপ-লুডু’ খেলা চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নাম থাকলে দলীয় নীতি অনুযায়ী জেলা কমিটির পদে তিনি থাকতে পারবেন না। তাই কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান টাঙ্গাইল জেলা সভাপতির পদ থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। এদিকে জেলা বিএনপির মেয়াদ তিন বছর আগে শেষ হলেও তারা সম্মেলন করতে পারেনি। তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তারা সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্মেলন হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে সম্মেলন ছাড়া কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার পর থেকে নতুন নেতৃত্বের আশায় অনেকে কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে থাকেন। সভাপতি হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, গৌতম চক্রবর্তীর নাম তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তোফাও সভাপতি হতে আগ্রহী। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফরহাদ ইকবাল ও হাসানুজ্জামিল শাহীন চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে সভাপতি আর কে সাধারণ সম্পাদক হবেন তা নিশ্চিত করতে পারছেন না দলের জেলা শাখার কেউ। তাঁরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে সব ঠিক করা হবে। এদিকে কমিটি হতে বিলম্ব হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশায় আছেন।

জেলা বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, ১৯৯৭ সালে মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানকে সভাপতি ও মনিরুজ্জামান খান বুলবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। এর পর থেকে মূলত কোন্দল দেখা দেয়। কারণ, তাদের মধ্যে হূদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। এক/এগারোর (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) পর জেলা বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুটি পক্ষ আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করলেও আরেকটি পক্ষ কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকে। ২০০৯ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দলীয় বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। মাহমুদুল হাসান আহ্বায়ক হলেও কমিটিতে স্থান হয় না দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা মনিরুজ্জামান বুলবুলের। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার বাবুল চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন ত্যাগী নেতা বাদ পড়েন কমিটি থেকে। একই বছরের (২০০৯ সাল) ৩০ নভেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়। মনিরুজ্জামান বুলবুল বিরোধের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। ভোটের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান সভাপতি ও শামসুল আলম তোফা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। যুবদল ও কৃষক দলের কমিটি গঠন করতে গিয়ে তাদের মধ্যে এ বিভক্তি হয়। জেলা বিএনপিতেও ‘আপন লোক’ নিয়ে কমিটি গঠনের প্রবণতা শুরু হয়। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে নেওয়া হয় দীর্ঘ সময়। ‘পকেট’ কমিটি গঠন করার অভিযোগে সমর্থন ও প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করা হয়। নিজেদের পক্ষকে ‘প্রকৃত বিএনপি’ বলে ঘোষণা দেন। ফলে দ্বন্দ্ব-কোন্দল দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। দলীয় কর্মকাণ্ড পালন করতে গিয়ে প্রায়ই নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল, ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতি ঘটে।

২০১১ সালে হঠাৎ করে সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তোফার প্রকাশ্য বিরোধ মিটে যায়। তখন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দলকে নতুন করে গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা হয়। একাধিক কর্মসূচিতে তাদের দুজনকে দেখা যায়। তবে এ অবস্থা বেশি দিন থাকেনি। পরে আবার শুরু হয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পক্ষের বিরোধ।

তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, কমিটি গঠন হলেও দলের কোন্দল কমবে না। বঞ্চিতরা বিরোধিতা করবে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলী ইমাম তপন বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে যাঁরা আছেন তাঁরা সবাই শহরে থেকে রাজনীতি করেন। অথচ বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকাংশ শহরের বাইরে থাকেন। ফলে দল গতিশীল হয় না। দলকে চাঙ্গা ও গতিশীল করতে হলে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন নেতাদের নেওয়া দরকার যাঁরা শহরে অবস্থান করেন। ’

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তোফা বলেন, ‘স্থান ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে জেলা সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি দলকে আগের চেয়ে গতিশীল করবে। ’


মন্তব্য