kalerkantho


রূপগঞ্জে সরকারি জমির মাটি ভাটায় বিক্রি

বেড়িবাঁধ ধসের শঙ্কা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী, দুয়ারাসহ আশপাশের এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় তিন বিঘা জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটের ভাটায় বিক্রি করছে একটি চক্র। পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ চক্রের হোতা ওই এলাকার কাইয়ুম, হুমায়ন, আলম, রশিদ, ছালেক, রুবেল ও সুলতান। মাটি কাটার ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির পাশে থাকা দুয়ারা বেড়িবাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। বাঁধটি ধসে গেলে বর্ষাকালে জমির ফসল নষ্টসহ বাড়িঘরের ক্ষতির আশঙ্কাও করছে তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় এলাকায় সরকারি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। মাটি কেটে ফেলার কারণে বেড়িবাঁধটি হয়ে পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ। মাটি কেটে নেওয়ার কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বৃষ্টির মৌসুমে জনগণের চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে। সরকারি এসব সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই প্রভাবশালী চক্রটি এই অপকর্ম চালাচ্ছে। ভোলাব তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ও ইন্সপেক্টর শাহাদাত হোসেন এই অপকর্মে জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার এক ব্যক্তি জানান, ওই সিন্ডিকেটের ভয়ে এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেউ এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে তাকেই মামলা-হামলার শিকার হতে হয়। এভাবে মাটি কাটতে থাকলে যেকোনো সময় দুয়ারা বেড়িবাঁধটি ধসে যেতে পারে। আর বাঁধটি ধসে গেলে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়বে। আবাদি জমির ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে। এরই মধ্যে বেলদি-দুয়ারা কবরস্থানটি অনেকটা ধসে পড়েছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, বেড়িবাঁধের পাশে মাটি কাটার ফলে প্রচুর ধুলাবালির সৃষ্টি হয়। এর ফলে গ্রীষ্মকালে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্ট হয়। ধুলাবালির কারণে মাঝেমধ্যে স্কুলে যেতে মন চায় না। আবার বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটিতে কাদা জমে যায়। তখন রাস্তা দিয়ে চলাচলই করা যায় না। এসব ব্যাপারে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে।

দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টার বলেন, ‘আমরা বারবার নিষেধ করার পরও তারা সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। প্রশাসনকে জানালেও কোনো কাজ হয় না। ’ এ ব্যাপারে উত্তর রূপগঞ্জের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নরসিংদী সেচ প্রকল্পের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীন ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হবে এবং ঘটনার সত্যতা পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় আমার জানা নেই। এখন যেহেতু জেনেছি, অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ’


মন্তব্য