kalerkantho


রতনের খামার ঘিরে ফের ভয়

রাত জেগে পাহারা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রতনের খামার ঘিরে ফের ভয়

কেরানীগঞ্জে আতঙ্কের জনপদের নাম রতনের খামার। জায়গাটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের দিঘিরপাড় এলাকায়। যা উপজেলার দুটি থানার সীমানা এলাকায়। যাতায়াতেও বেশ দুর্গম। এ সুযোগে এলাকাটি অপরাধীদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। একসময় এ এলাকায় প্রায়ই লাশ পাওয়া যেত। তবে প্রায় দুই বছর শান্ত থাকার পর আবারও এলাকায় ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এ এলাকায় গত দুই মাসে কয়েকটি ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে নিজেরাই রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করেছে।

এদিকে রতনের খামারের পাশে পশ্চিম ভাংনা এলাকায় রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এক ডাকাতকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। রবিবার রাতে পাহারা দেওয়ার সময় একটি ঝোপের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠ শোনা যায়।

পাহারায় থাকা লোকজন এগিয়ে গেলে ঝোপ থেকে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন ধাওয়া করে সুমন নামের একজনকে আটক করে তারা। পরে গতকাল সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিন চৌধুরীর সহযোগিতায় তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় আব্দুল বলেন, ‘গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আমার বাড়িতে ১৫-২০ জন ডাকাত রামদা-চাপাতিসহ এসে ঘর তছনছ করে। পরে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসেট লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতরা আমার ছেলের ঘরে গিয়ে তাকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে। যাওয়ার সময় থানা পুলিশ করলে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। ’

একই এলাকার নাইমুর রহমান জানান, তাঁর বাড়ি পশ্চিম ভাংনা এলাকায়। গত ২৮ জানুয়ারি রাতে ১০-১৫ জন ডাকাত তাঁর বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী-বাচ্চাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ঘরে তাণ্ডব চালিয়ে টাকা, দুটি মোবাইল ফোনসেটসহ মূল্যবান আসবাব নিয়ে যায়। এ ঘটনা জানিয়েও পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

রতনের খামারের পূর্ব পাশ দীঘিরপার এলাকার সমসের আলী বলেন, গত শনিবার ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ২৫-৩০ জন ডাকাত তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে। তখন বাধা দিলে ডাকাতরা তাঁকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। পরে ডাকাতরা ঘরের আলমারি ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন চৌধুরী জানান, এলাকাটি প্রায় দুই বছর বেশ শান্ত ছিল। হঠাৎই যেন আবার এর রূপ পাল্টে গেছে। একসময় রতনের খামার এলাকায় খুন ও ডাকাতি হতো। এ এলাকা দিয়ে জিনজিরা থেকে আবদুল্লাপুরের লোকজন দিন-রাত আসা যাওয়া করত। তখন এখান দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো ছিল। কিন্তু খুন-ডাকাতির কারণে এ রুটে মানুষের চলাচল কমে যায়। প্রায় দুই বছর ধরে এলাকা শান্ত থাকায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে সড়কটি নতুন করে চালু করার কাজ চলছে। আর এ সময় আবার সন্ত্রাসীদের উত্পাতও বেড়ে গেল। এখন আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে এলাকায় পাহারা দিচ্ছে। কিন্তু এভাবে তো খুব বেশিদিন সম্ভব নয়। তাই এ এলাকায় নিয়মিত পুলিশের টহল নিশ্চিত করা বা একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করার দাবি জানান তিনি। এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ সার্কেল এএসপি মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, রবিবার রাতে এলাকাবাসী সুমন নামের একজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ডাকাতদলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের দিকে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের তত্কালীন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হকের বড় ছেলে এনামুল হক রতন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দিঘিরপাড় এলাকায় জমি কিনে মাছের খামার গড়ে তোলেন। ১৯৯৫ সালে ওই খামারেই এনামুল হক রতনকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এরপর থেকেই জায়গাটি হয়ে ওঠে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য।


মন্তব্য