kalerkantho

‘হ-য-ব-র-ল শহর’

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘হ-য-ব-র-ল শহর’

ময়মনসিংহ শহরের যেদিকেই তাকাবেন চোখে পড়বে অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি, বিপণিবিতান, সড়ক ও অলিগলি। এরপর আবার সড়কের দুই পাশ দখল, ড্রেন দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রভৃতি তো রয়েছেই।

এ কারণে অনেকেই ময়মনসিংহকে বলেন ‘হ-য-ব-র-ল শহর’।

শহরের কোনটা আবাসিক এলাকা, কোনটা বাণিজ্যিক এলাকা বলা মুশকিল। অলিগলিতে নেমে এসেছে বাড়িঘরের সিঁড়ি। পাকা দোকানপাট বসছে ছোট-বড় ড্রেনের ওপর। বেশির ভাগ স্থাপনাই তৈরি হচ্ছে খেয়ালখুশিমতো।

এমন অবস্থা থেকে এই শহরকে মুক্তি দিতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ময়মনসিংহ স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান নামের এক মহাপরিকল্পনা। ২০১৫ সালের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাপরিকল্পনার কথা প্রকাশের আগে প্রায় পাঁচ বছর চলে জরিপকাজ। বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত সেই মহাপরিকল্পনাটি এখন গেজেট হওয়ার অপেক্ষায়। ২০৩১ সালের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা।

তবে ওই মহাপরিকল্পনা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত সংশ্লিষ্টরা। এর বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে পুরনো অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, সংকীর্ণ মোড় আর অপরিকল্পিত বাড়িঘরকে। দুই শ বছরের বেশি পুরনো এই শহরে দিন দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘরবাড়ি। কিন্তু হয়নি নতুন কোনো সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো প্রশস্তও করা হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌরসভার অনুমোদন না নিয়েই অনেক বাড়িঘর হয়েছে। আবার নামকাওয়াস্তে অনুমোদন নিলেও অনেক বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে অনুমোদিত নকশার বাইরে। সড়কের পাশে জায়গা রাখা তো দূরের কথা, সড়কের ওপর চলে এসেছে অসংখ্য বাড়ির সীমানাপ্রাচীর কিংবা ছাদ।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কিভাবে দুর্যোগঝুঁকিমুক্ত একটি আধুনিক শহর গড়ে তোলা যায় এ লক্ষ্যে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শহরে জরিপ চালায় নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর। ভবিষ্যৎ সিটি করপোরেশন এলাকা বিবেচনায় পৌরসভার পাশের ১০টি ইউনিয়নকেও এই জরিপের আওতায় আনা হয়। ওই জরিপে ভূমির ব্যবহার, মাটির অবস্থা, শিল্প জোন-আবাসিক জোন, সড়ক প্রশস্তকরণসহ আধুনিক শহর গড়ে তোলার সব পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

ওই পরিকল্পনায় শহরের সড়ক প্রশস্ত করার কথা বলা আছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক ১০ ফুট প্রশস্ত করলে ১০ হাজার ভবন ভাঙতে হবে। ১২ ফুট প্রশস্ত করলে ১২ হাজার, ১৬ ফুট করলে ১৬ হাজার ভবন ভাঙতে হবে।

ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম বলেন, ‘একটি প্ল্যান হয়েছে, সেটি আমাদের জন্য আনন্দের ব্যাপার। এটিকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এই প্ল্যান কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। ’

ময়মনসিংহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা কালের কণ্ঠকে বলেন, এ মহাপরিকল্পনায় একটি শহরের নাগরিক সুযোগ-সুবিধার সব বিষয় যুক্ত আছে, যা এই শহরের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। গেজেট হওয়ার পর ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়িত হওয়ার কথা।


মন্তব্য