kalerkantho


মা ও প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা মাদকাসক্ত ছেলের

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদকাসক্ত এক যুবক কুপিয়ে তার মা ও প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের কৈয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মিরাজ হোসেন (৩৩) মানসিক রোগে ভুগছে বলে তার বাবা দাবি করলেও প্রতিবেশীরা বলছে, সে মাদকাসক্ত।

পুলিশ মিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া তার বাবা মোহাম্মদ আলী ও বড় ভাই আল আমীন চেঙ্গুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

নিহত দুজন হলেন মিরাজের মা মিনারা বেগম (৪৫) ও তাঁদের প্রতিবেশী ছবেদ আলীর ছেলে আকবর আলী (৫০)।

মধুপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ও এলাকাবাসী জানায়, মিরাজ গতকাল সকালে তার মায়ের কাছে টাকা চায়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিরাজ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায় মায়ের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে সে। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশী আকবর আলী এগিয়ে গিয়ে মিরাজকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তাঁকেও কুপিয়ে জখম করে সে।

ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, ঘটনার পর মিরাজ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য প্রতিবেশীরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

প্রতিবেশীরা জানায়, মিরাজ নেশাদ্রব্য কেনার জন্য মায়ের কাছে টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় সে মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। প্রতিবেশী আকবর আলী এতে বাধা দিতে গেলে তাঁকেও সে কুপিয়ে হত্যা করে। প্রতিবেশী সোহরাব আলী, আলী আকবর ও হায়েত আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা নিহত দুজনের মাথা থেঁতলানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ অবস্থা দেখে পার্শ্ববর্তী মোটের বাজার পূর্বপাড়া এলাকার মর্জিনা বেগম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মিরাজ মাদকাসক্ত ও মানসিক প্রতিবন্ধী বলে তারা উল্লেখ করে।

তবে মিরাজের বাবা মোহাম্মদ আলীর বরাত দিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর ছেলে মিরাজ মানসিক রোগী। রাগের বশবর্তী হয়ে ছেলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মিরাজ পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলেও ওসি জানান।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত দা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত আকবর আলীর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।


মন্তব্য