kalerkantho


কাশিয়ানীতে প্রবহমান খালে বাঁধ, প্রতিবাদ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া বাজারের খালে বাঁধ দিয়ে এক প্রভাবশালী মাটি ভরাট করছেন। এর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ (শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠন) কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা আবুল কালাম আজাদ প্রভাব খাটিয়ে বিগত ২০১৫ সালে বাজারসংলগ্ন খালের এক একর জমি ইজারা নিয়েছেন। তিনি পাশের সীতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত রবিবার ওই সিবিএ নেতার ভাই হাসান মোল্লা তাঁর লোকজন নিয়ে মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেন এবং খালের মাঝে বাঁধ দেন।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার এলাকাবাসী ও রামদিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ দিন ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। এ উপলক্ষে রামদিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বেথুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষিরোদ রঞ্জন বিশ্বাস। সমাবেশে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোক্তার হোসেন, ফুকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক মোল্লা, জেলা পরিষদের সদস্য শরীফ সোহরাব হোসেন, রামদিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, ফারুক আহম্মেদ, তহশিলদার রকিব সরদার, যুবলীগ নেতা আমিরুজ্জামান মিয়া, কাশিয়ানী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইদুর রহমান, রামদিয়া সরকারি শ্রীকৃষ্ণ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শেখ, ব্যবসায়ী ফরহাদ মোল্লা, শওকত মোল্লা, শাফায়েত মোল্লা ও মান্নান ফকির প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের মধ্যে একটি বড় ও প্রসিদ্ধ বাজার এটি। এই খাল দিয়ে ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে তাদের মালপত্র কম খরচে আনা-নেওয়া করে।

খালটি ভরাট করলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বে। এ ছাড়া এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য জমি থেকে এ খাল দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। তাই এ খাল যাতে প্রভাবশালী মহলটি ভরাট করতে না পারে এর জন্য তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঢাকায় অবস্থান করা সিবিএ নেতা মোল্লা আবুল কালাম আজাদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমার ছেলে শওকী আজাদ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এক একর জলাভূমি নিয়মানুযায়ী ইজারা নিয়েছে। মরা খালে বাঁধ দিয়ে মাটি ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য বাঁশ ও নেট দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এর আগে অনেকে ইজারাকৃত জমির মধ্যে বাড়িঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। ওই সব বাসিন্দারা যখন দেখেছেন তাঁরা উচ্ছেদ হতে চলেছেন, তখন তাঁরা অন্যদের সঙ্গে নিয়ে এ প্রতিবাদের ব্যবস্থা করেছেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু এলাকাবাসী চান না, তাই ছেলের নামে প্রাপ্ত ইজারা বাতিল করার জন্য সোমবার একটি আবেদন কুরিয়ারের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর পাঠিয়েছি। ’

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনউদ্দিন বলেন, ‘লিজ আমি এখানে আসার আগে হয়েছে। লিজ নেওয়া জমির শ্রেণির পরিবর্তন করা যাবে না। জমি ভরাটের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইজারা বাতিলের কোনো আবেদন পাইনি। ’


মন্তব্য