kalerkantho


নেতাদের মুখে ঐক্য কাজে ‘দা-কুমড়া’

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নেতাদের মুখে ঐক্য কাজে ‘দা-কুমড়া’

লক্ষ্মীপুরে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা কয়েক ভাগে বিভক্ত। তৃণমূলের কর্মীরা ভেবেছিল, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে কোন্দল মিটে যাবে।

কিন্তু তা মেটেনি। এর বড় প্রমাণ, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে গতকাল সোমবার তিনটি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন নেতারা। সব মিলে গত পাঁচ দিনে পাঁচটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। ২০ বছর পর আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর আসবেন। এ উপলক্ষে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে গতকাল দুপুর ১২টায় লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল তাঁর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে সকাল ১০টায় ও কুয়েত শাখা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল আরেকটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করেন। গত শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। গত বৃহস্পতিবার সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসব সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের অনুসারীরা উপস্থিত ছিল। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতারা লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো দাবি উপস্থাপন করেন।

নেতারা জানান, ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এম আলাউদ্দিনকে সভাপতি করে কমিটি গঠনের পর জেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। শাহজাহান কামাল ও আবু তাহের পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করতেন। সেই কোন্দল দিনে দিনে বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা অওয়ামী লীগের মধ্যম সারির তিন নেতা বলেন, ‘স্থানীয় উন্নয়নের জন্য দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আগমনে বিভিন্নভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও  জেলার সিনিয়র নেতাদের এক টেবিলে দেখা যায়নি। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মরিয়া প্রায় প্রত্যেকে। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ‘জেলাবাসী এক হয়ে শেখ হাসিনাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। জনসভা সফল করতে সব সহযোগী সংগঠনের নেতারা দিন-রাত কাজ করছেন। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ‘নিজেরা অলোচনা করেই পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছি। নেতাদের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী। তবে দলের মধ্যে সন্ত্রাসীদের স্থান নেই। ’ লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, ‘গত বিএনপি সরকার আমলে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের ৩৪ নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ দাবির পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইব। ’ লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম গতকাল বিকেলে বলেন, ‘প্রিয় নেত্রীর আগমনে লক্ষ্মীপুর নতুন সাজে সেজেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে কোনো ফাটল নেই। সবাই এক হয়ে কাজ করছেন। ’

নির্দেশনা লঙ্ঘন

শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডসহ প্রচারণার ক্ষেত্রে দলীয় নির্দেশনা ছিল—শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়া কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না। যিনি প্রচারণা চালাবেন, নিচে সৌজন্যে তাঁর নাম-পদবি ব্যবহার করা যাবে। ৬ মার্চ জেলা স্টেডিয়ামে এক প্রস্তুতিসভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ নেতা তা মানেননি। জেলার বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বশীল নেতারা নিজেদের ছবি জুড়ে দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসায় এক অনুষ্ঠানে এ কে এম এনামুল হক শামীম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় অসার পর ‘খুনাখুনি আর সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে পরিচিতি পায় লক্ষ্মীপুর। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় এলে সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদে ছোট-বড় ৩০টি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে খুনাখুনি আর গোলাগুলি ছিল নিত্য ঘটনা। নিজেদের নামে গড়ে ওঠা প্রত্যেক সন্ত্রাসী বাহিনীতে ২০ থেকে ৩০০ অস্ত্রধারী প্রশিক্ষিত যুবক ভিড়েছিল। তারা অনেকটা প্রকাশ্যে হত্যা, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত।


মন্তব্য