kalerkantho


ময়মনসিংহে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণা

গাইবান্ধা থেকে প্রতারকচক্রের এক সদস্য গ্রেপ্তার

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে ফোন করা প্রতারকের খপ্পরে পড়ে ৭০ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি পরিমাণ সোনার গয়না খুইয়েছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরশহরের চারআনীপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫)। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২২ দিন পর গত শনিবার প্রতারকচক্রের এক সদস্যকে গাইবান্দার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. রফিকুল ইসলাম (২৬) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বিশ্বনাথপুর মন্নাপাড়া এলাকার শমসের শেখের ছেলে। তাঁর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও  খোয়া যাওয়া কিছু সোনার গয়না উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল রবিবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে রফিককে আদালতে পাঠানো হয়। আজ সোমবার রিমান্ড শুনানি হবে বলে জানা গেছে।

প্রতারণার শিকার সাইফুল ইসলাম জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে তাঁর মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে  জানায়, ৭৫০ বছর ধরে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে তিনি বসবাস করছেন। সাইফুলকে তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তে বলেন। সেই সঙ্গে তিনি দুটি কোরআন শরীফ ও দুটি জায়নামাজ কেনার জন্যে দেড় হাজার টাকা চান। তার কথা মতো সাইফুল পরদিন বিকাশের মাধ্যমে দেড় হাজার টাকা এবং ফোনে কথা বলার খরচ হিসেবে ১০০ টাকা রিচার্জ পাঠান।

পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ফোনদাতা তাঁকে আবার ফোন করে তাঁর জন্য সাত হাঁড়ি ভর্তি ধনরত্ন বরাদ্দ হয়েছে বলে জানান। সাইফুল তখন জানান, তিনি গরিব মানুষ, এত সম্পদের তাঁর প্রয়োজন নেই। তখন ওই লোক তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলে ধনরত্ন ভর্তি সাতটি হাঁড়ি না নিলে একমাত্র ছেলের মৃত্যুশঙ্কা রয়েছে। এতে সাইফুল আতঙ্কিত হয়ে ওই ব্যক্তির কথামতো কাজ করতে থাকে। এরপর ওই ব্যক্তি জানায়, সাত হাঁড়ি ধনরত্ন তিন হাজার ২১ জন জিন মিলে পাহারা দিচ্ছে। তাঁদের মিষ্টি খাওয়াতে হবে। দেশে প্রস্তুত মিষ্টি দিয়ে হবে না। সৌদি আরব থেকে পবিত্র মিষ্টি আনতে হবে। এ জন্য তাঁকে ৪৫ হাজার ১৫ টাকা পাঠাতে বলেন। বিকাশের মাধ্যমে সাইফুল ওই টাকা পাঠিয়ে দেন।

সাইফুল আরো জানান, এরপর থেকে নানাভাবে তার কাছ থেকে টাকা পয়সা আদায় করতে থাকলে তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি থানায় অভিযোগ করেন।


মন্তব্য