kalerkantho


‘কেওড়া’ কাটছে পকেট

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ছোট্ট একটি গ্লাসে দুটি পাঁচ টাকার কয়েন কিছুক্ষণ ওলটপালট করে উপুড় করে রাখা হচ্ছে চটের ওপর। হাত দিয়ে গ্লাসটি ঠেসে ধরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা, তারপর শুরু টাকার বৃষ্টি। কয়েনের দুই পাশকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার টাকার বাজি ধরছে চটের চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ। একসময় গ্লাস তুলে নেওয়ার পর এক পক্ষ বাজিতে জয়ী হচ্ছে আর অন্য পক্ষ হারছে। জয়ী পক্ষ পাচ্ছে বাজির দ্বিগুণ টাকা। আর না মিললে পুরো টাকা পকেটে পুরছেন গ্লাসওয়ালা জুয়াড়ি।

প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশ্যে চলছে এ খেলা; যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেওড়া’। পুলিশ লোকদেখানে অভিযানে মাঝেমধ্যে দু-একজনকে ধরলেও থামছে না এ সর্বনাশা খেলা। দিনে-রাতে পসরা সাজিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মধ্যকাশিপুর বাজারের পাশেই বাঁশঝাড়ের মধ্যে স্থানীয় যুবক সিরাজুল, মকবুল, বারেক, সাধু, সাইদুল, আব্বাস আলী, কেরানী ও গ্রাম পুলিশ জাবেদ আলীর উদ্যোগে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলছে এ কেওড়া খেলা। আর গ্রাম পুলিশ হওয়ার সুবাদে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে জাবেদ আলী।

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছে আর জুয়াড়িচক্রের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে ফতুর হয়ে ফিরে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়, ওই স্পটে কেওড়া খেলায় দৈনিক তিন-চার লাখ টাকার লেনদেন হয়। স্থানীয় ও বাইরের অনেকেই খেলায় অংশ নিয়ে ফতুর হচ্ছে। এর মধ্যে উঠতি বয়সের যুবকরাও রয়েছে। এ নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। পুলিশকে ম্যানেজ করেই ওই কাজ চলছে।

কেরানী নামে পরিচিত জুয়াড়ি বলেন, ‘বর্তমানে খেলা চলছে। ব্যস্ত আছি, ভাই। ’ তবে অপর জুয়াড়ি সিরাজুল বলেন, ‘হঠাৎ করি পেলেয়ার কমি গেইছে। তাই তেমন জমতেছে না খেলা। ’ পুলিশকে ম্যানেজ করার ব্যাপারে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওদিকে সব ওকে। ’

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার ওসি এ বি এম রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘জুয়া বা কেওড়ার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। কোথাও জুয়া চলার খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য