kalerkantho


আলমারিতে লুকিয়েও রক্ষা পেল না আসামি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মামলা হয়েছে এক মাস আগে। পুলিশ চেষ্টা করেও আসামি ধরতে পারছে না।

এ নিয়ে তৈরি হচ্ছে চাপ। খবর আসে, এক আসামি বাড়িতে ঘুমাচ্ছে। ব্যস, ভোর ৫টায় পুলিশ দলবল নিয়ে হাজির। ঘরে ঢুকেও আসামিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষে স্টিলের আলমারির দরজা খোলা হয়। ধরা পড়ে আসামি।

এ ঘটনা ঘটেছে গতকাল রবিবার ভোরে রাজবাড়ী জেলা শহরের লক্ষ্মীকোল গ্রামে। আটক মুরাদ সরদার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে মাছ নিধনের আরো একটি মামলা রয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী রাজবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনসের আলী বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে আসামি ধরতে তার বাড়িতে অভিযান চালাই। এ সময় মুরাদ ঘরে অবস্থান করলেও তার পরিবারের সদস্যরা তা অস্বীকার করে। একপর্যায়ে পুলিশ ঘরে ঢুকে নানা স্থানে তাকে খুঁজতে থাকে। পরে তাকে স্টিলের আলমারির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ’

রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জিল্লুর রহমান জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থানায় রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান একটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, জেলা সদরের বলতা সেতু এলাকায় থাকা বায়তুল নুরে জামে মসজিদের পাশে গত ৬ জানুয়ারি রাজবাড়ী শহররক্ষা বাঁধের ৭৫ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। এ ভাঙন হয়েছে বাঁধের পাশে আসামিরা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু মজুদ করার কারণে। এতে রাজবাড়ী শহররক্ষা বাঁধের আড়াই কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার আসামিরা হলো আশরাফ আলী সরদারের ছেলে মুরাদ সরদার, উড়াকান্দা গ্রামের মৃত তরক আলীর ছেলে কুদ্দুস এবং লক্ষ্মীকোল বাজারের মৃত গেদন চৌকিদারের ছেলে সোহাগ (৩০)।

আইন-শৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ

এদিকে গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক জিনাত আরা এর সভাপতি ছিলেন। সভায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, জৌকুড়া ঘাটে বালুভর্তি ট্রাকের চালকের কাছ থেকে ৮০০ ও এক হাজার ২০০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন, নদীর পাড়ে অবৈধভাবে বালুর স্তূপ তৈরি এবং ওই স্তূপের কারণে বাঁধের ধস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী। সভায় থাকা রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী পৌর মেয়রের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেবেকা খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল আশরাফিসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য