kalerkantho


দাউদকান্দিতে নিরাপত্তাকর্মীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা!

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দাউদকান্দি উপজেলায় মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী শফিকুল ইসলামকে মুখে টেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে উপজেলার গৌরীপুর বাজারের নিউ মার্কেটে (মোবাইল মার্কেট)।

তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল রবিবার ভোরে শফিকুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ সময় মার্কেটের সিঁড়ির পাশ থেকে দুটি অকটেনের ক্যান উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মার্কেটের মালিক রশিদ সওদাগরের ছেলে মো. মাসুদ আলম, রিভা টেলিকমের মালিক মো. নুরুল ইসলাম এবং দোকানের কর্মচারী শাহিন ও নাছিরকে আটক করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি) মহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন, দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান ও তিতাস থানার ওসি নুরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শফিকুল উপজেলার হুগুলিয়া গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, শফিকুল ইসলাম তিন মাস ধরে মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার দিন শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা মার্কেটের উত্তর পাশের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে তারা নিরাপত্তাকর্মী শফিকুলের মুখে টেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ও দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে ফেলে শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সকালে (গতকাল) গ্রাহক শরিফ তাঁর ফোন রিপেয়ারিংয়ের জন্য মার্কেটে গেলে সিঁড়ির মধ্যে মানুষ পুড়তে দেখে চিৎকার দিলে বাজারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। মার্কেটের কয়েক শতাধিক দোকানের মধ্যে কেবল রিভা টেলিকমের তালাবদ্ধ শাটার কাটা অবস্থায় ছিল। দোকানটির মালিক আটক হওয়া নুরুল ইসলামের দাবি, তাঁর দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা ও ৩৫টির মতো মোবাইল ফোন খোয়া গেছে। কয়েকটি মোবাইল ফোন সিঁড়ির নিচে পড়ে ছিল। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যেভাবে শাটার কাটা হয়েছে তা দিয়ে কারো পক্ষে দোকানে ঢোকা সম্ভব না। যদি কেউ ঢুকেও থাকে তাহলে সেটার আলামত পাওয়া যেত। এ ব্যাপারে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মিজানুর বলেন, মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীকে যেভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে তা রহস্যজনক। ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মন্তব্য