kalerkantho


অবশেষে কার্ড পাচ্ছে হাফিজুল ও মৌসুমী

পাবনা প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পাবনা সদরের হেমায়েতপুর ইউনিয়নের দিনমজুর রাজেম প্রামাণিকের চার ছেলে আর চার মেয়ের মধ্যে সবার ছোট হাফিজুলের বয়স ১৮ বছর। কিন্তু তাকে এখনো শিশুর মতোই দেখায়।

হাফিজুল চলতে পারে না, কানে শুনতে পায় না, কথা বুঝতে পারে না, এমনকি মুখে বা ইশারা-ইঙ্গিতেও কোনো অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না। জন্মগত প্রতিবন্ধী হাফিজুলকে নিয়ে দরিদ্র রাজেমের চিন্তার শেষ নেই। অথচ এই ছেলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবন্ধী কার্ড পাচ্ছিলেন না তিনি।

একই গ্রামের আব্দুল মজিদের এক ছেলে চার মেয়ের মধ্যে সবার বড় মৌসুমীর বয়স এ বছর ১৯ হবে। মৌসুমী বসতে পারলেও কথা বলতে পারে না। হাফিজুলের মতো সেও জন্মপ্রতিবন্ধী। তিন বছর ধরে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিবন্ধী ভাতার একটি কার্ড জোগাড়ের জন্য ধরনা দিয়েও পাননি। অবশেষে আজ সোমবার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেতে যাচ্ছে তারা।

গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনা সদরের হেমায়েতপুর ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সিঁড়ির নিচের বারান্দায় ধুলা-ময়লার মাঝে হাফিজুল আর মৌসুমী পড়ে রয়েছে।

তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাফিজুলের মা রাশিদা বেগম জানান, সন্তানের জন্য একটা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেতে তিন বছর ধরে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে হেমায়েতপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মালিথা জানান, এ বছর তাঁর কাছে নতুন কার্ড এসেছে মাত্র ৫০টি। অথচ ইউনিয়নে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা আরো অনেক বেশি। তার পরও চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাদের বেশি প্রয়োজন তাদের কার্ড দেওয়ার জন্য।

পাবনা জেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৯টি উপজেলা ও পাবনা শহর সমাজসেবা অফিসের অধীন এলাকার জন্য নতুন করে দুই হাজার ৬০১টি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৪৪০, আটঘরিয়ায় ১৬৬, ঈশ্বরদীতে ৩৫৮, চাটমোহরে ২৮৯, ফরিদপুরে ১৫০, বেড়ায় ২৮৩, সাঁথিয়ায় ৩৯৭ এবং শহর সমাজসেবা অফিসের আওতাভুক্ত এলাকায় ১৩৭টি নতুন কার্ড বরাদ্দ এসেছে। এর বাইরে জেলার ১০ হাজার ৬০১ জন প্রতিবন্ধী এরই মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পাবনা জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক আব্দুল মোমিন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ওই দুজনের কার্ড নিশ্চিত করেন।


মন্তব্য