kalerkantho


কলাপাড়া

সবুজ গালিচায় তরমুজ ‘ঢেউ’

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সবুজ গালিচায় তরমুজ ‘ঢেউ’

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতিচরে আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষির মুখে ফুটেছে হাসি। চাষি সোহাগ মোল্লার সেই উচ্ছ্বাস তার দুই মেয়েকেও রাঙিয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সবুজ গালিচায় তরমুজের ‘ঢেউ’। সেই ‘ঢেউ’ দেখে আনন্দে ভাসছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাষিরা।

আগাম জাতের তরমুজ চাষে ভালো ফলন আর বেশি দাম পেয়ে এখন তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি। আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ মাস থেকে আগাম তরমুজ চাষে ঝুঁকে চাষিরা। তিন মাস পর ফাল্গুনের শেষের দিকে এখানকার তরমুজ পরিপক্ব হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে ছুটে আসে পাইকাররা।

সরেজমিন ধুলাসার ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতলাগোয়া পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি ও কাউয়াচর গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক একর বেলাভূমির সংরক্ষিত ক্ষেতে বড় বড় তরমুজ লুটিয়ে আছে। ক্ষেতের মাঝখানে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে সার্বক্ষণিক পাহারায় আছেন একাধিক পাহারাদার। শত চেষ্টা করেও পাহারাদারের চোখ গলিয়ে তরমুজ ক্ষেতে কেউ ঢুকতে পারে না। পাশের একটি তরমুজ ক্ষেতে নানা বয়সের ২০-২৫ জন মানুষ তরমুজ উৎসবে মেতেছে। কেউ কাটছে তরমুজ, কেউবা স্তূপ করা তরমুজ তুলছেন ট্রলিতে। সেই ট্রলি তরমুজ নিয়ে ছুটছেন ধুলাসার ধোলাই মার্কেটের পাইকারদের ট্রাকের দিকে।

সেখানেও রয়েছে শ্রমিক। হাতে হাতে ট্রলি থেকে তরমুজের স্তূপ তৈরি করছে একের পর এক ট্রাকে।

সেখানে উপস্থিত তরমুজ বিক্রেতা চাষি মো. সেলিম হাওলাদার বলেন, ‘আমি কাউয়াচরের ৪০ কড়া জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজ চাষ, সার, ওষুধসহ সার্বিক আমার খরচ হয়েছে ৭২ হাজার টাকা। ৪০ কড়া জমির সব পাকা তরমুজ গত শুক্রবার পাইকারের কাছে বিক্রি করেছি এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। পাইকার তার পছন্দের পাকা ও বড় বড় তরমুজ নিয়ে যাওয়ার পরও এখনো ক্ষেতে যে তরমুজ আছে তা আমি পরিপক্ব করে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব। ’

গঙ্গামতিচরের চাষি মো. আল-আমীন জানান, গত বৃহস্পতিবার ৩০ কড়া জমির তরমুজ বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকায়। এতে প্রতিটি তরমুজের দাম পড়েছে ৫০ টাকা করে। তরমুজ চাষে আমার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখনই বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকা। এখনো ক্ষেতে আরো ১০ হাজার টাকা মূল্যের তরমুজ রয়েছে। পরিচর্যা করে কিছুদিন পর তা বিক্রি করতে পারব ১০ হাজার টাকায়। তবে একই গ্রামের সোহাগ মোল্লা জানান, চার একর জমিতে কালো এবং বাংলালিংক জাতের তরমুজ চাষ করছি। এতে সাকুল্যে খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে ক্ষেতে আট হাজার তরমুজ বিক্রিযোগ্য হয়েছে। বড় বড় সাইজের ওই তরমুজগুলো কমপক্ষে চার লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে বলে তিনি দাবি করেন। চাষি আল-আমীন আরো জানান, বর্ষা শেষে ধানকাটার পর পরই এখানকার বেলেমাটি একটু তষা থাকে। সে কারণে এখানে আগাম তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

গঙ্গামতি ও কাউয়াচরে তরমুজ কিনতে আসা পাইকার মো. খলিল হাওলাদার বলেন, ‘আমরা বরিশাল ঢাকা থেকে সাগরপারের এই পল্লীতে এসেছি তরমুজ কিনতে। তরমুজ নিয়ে মোকামে পৌঁছতে প্রতিটি তরমুজের দাম পড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এরপর অনেক তরমুজ নানা কারণে নষ্ট হয়ে যায়। তবে মৌসুম শুরুর আগের প্রতিটি তরমুজ বিভাগীয় ও ঢাকা শহরে বিক্রি হবে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। কেননা আগাম তরমুজের চাহিদা বেশি।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, সাধারণত তরমুজ চাষ শুরু হয় পৌষের শেষের দিকে। প্রায় তিন মাস পর চৈত্রের মাঝামাঝি সময় কৃষকরা তরমুজ বাজারজাত করে। তবে কলাপাড়ার গঙ্গামতি ও কাউয়াচর এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক তরমুজ চাষি শতাধিক একর জমিতে আগাম তরমুজ চাষ শুরু করে প্রতিবছর লাভবান হচ্ছে। আগাম তরমুজ চাষে দুর্যোগে আক্রান্ত হওয়ার তেমন আশঙ্কা থাকে না।


মন্তব্য