kalerkantho


বগুড়া

জামায়াতি উৎসবে আ. লীগ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জামায়াতি উৎসবে আ. লীগ নেতারা

বগুড়া শহরের চারতারা হোটেল নাজ গার্ডেনে গত শনিবার রাতে প্রায় পাঁচ হাজার অতিথিকে খাওয়ানো হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল শেরপুর উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি দবিবুর রহমানের ছেলের বিয়ে।

তিনি শেরপুরে নাশকতা, হামলা মামলার আসামি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত নেতারা উৎসবে মেতে উঠেছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, শেরপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সহসভাপতি সাইফুল বারী ডাবলুসহ আরো অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। তবে অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানানোর পর প্রত্যাখ্যান করেন শেরপুর-ধুনটের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো বিতর্কিত কাজে জড়াতে চাই না। আর এ অনুষ্ঠানে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই যোগ দিয়েছেন। ’

স্থানীয়রা জানায়, কোনো অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত অতিথি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে খোদ আয়োজকদের অনেকে বলেছেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান দবির হাজি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের জন্য বুমেরাং হতে পারে।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দবিবুরের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলার কারণে তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করে তিনি স্বপদে ফেরেন। দবির জেলা জামায়াতের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে বহুল আলোচিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, জামায়াতের সঙ্গে মিশে রয়েছেন যেসব আওয়ামী লীগ নেতা তাঁরাই এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বলেন, ‘এটি সামাজিকতা রক্ষার জন্য একটি অনুষ্ঠান। যোগ দেওয়া দোষের কিছু না। ’

শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি দবিবুর রহমান বলেন, ‘অনেককে দাওয়াত করা হয়েছিল। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা এসেছেন। এখানে কে কোন দল করল, সেটি মুখ্য বিষয় না। ’

শেরপুর থানার ওসি খান মোহাম্মদ এরফান বলেন, ‘দবিরের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ চারটি মামলা রয়েছে। মামলার কারণে তাঁর চেয়ারম্যান পদ স্থগিত হলেও উচ্চ আদালত থেকে তিনি পুনর্বহাল হয়েছেন। ’

 


মন্তব্য