kalerkantho


সংসদ নির্বাচনের আগেই উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করতে তোড়জোড়

চট্টগ্রামে পানি শোধনাগারের উদ্বোধন আজ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রাম নগরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধীনে যেসব উন্নয়নকাজ চলছে তা আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই শেষ করতে জোরেশোরে চলছে নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে নগরের অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে তার বেশির ভাগ নির্বাচনের আগে শেষ করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

এরই মধ্যে চট্টগ্রামে ১৪ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানি শোধনাগারের কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বোট ক্লাব প্রাঙ্গণে এর উদ্বোধন করবেন। ‘শেখ হাসিনা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ নামের এ শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া আগামী মাসে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে নগরীর সবচেয়ে বড় মুরাদপুর-লালখানবাজার ফ্লাইওভার। বর্তমান সরকারের আমলে শুরু হওয়া ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার লম্বা এ ফ্লাইওভারের এরই  মধ্যে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ ফ্লাইওভারও প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ রকম আরেকটি প্রকল্প পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোডের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের জুন মাস হলেও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের মধ্যে শেষ করতে চায়।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরজুড়ে চলছে ক্লিন ও গ্রিনসিটির মেগা প্রকল্পের কাজ। নির্বাচনের আগে করপোরেশনের অধীনে যেসব উন্নয়নকাজ চলছে তা-ও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে। উন্নয়নকাজগুলো শেষ করার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এ কাজের সুফল ঘরে তুলতে চায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পেয়েছি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য। এরই মধ্যে অনেক কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজগুলো এখন খণ্ড খণ্ড হওয়ার কারণে নগরবাসীর কাছে তেমন চোখে পড়ছে না। আমরা নির্বাচনকে সামনে রেখে খাল খনন ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, এলইডি লাইটের মাধ্যমে পুরো নগরকে আলোকিত করাসহ অসংখ্য উন্নয়নকাজ হাতে নিয়েছি। চলতি বছর থেকে অনেক উন্নয়নকাজ জনগণের চোখে পড়বে। অন্য প্রকল্পের কাজগুলো নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করে এর সুফল ভোটের মাধ্যমে আমরা পাব। ’

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘সরকারের টানা দুই মেয়াদের মধ্যে গত আট বছরে চট্টগ্রাম নগরে সিডিএর মাধ্যমে অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে শুধু সিডিএর অধীনে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ আমরা শেষ করতে পারব। এরই মধ্যে নগরজুড়ে প্রায় সব কটি সড়ক প্রশস্তকরণ অর্থাৎ ফোর লেন হয়েছে। এ ছাড়া দুটি ফ্লাইওভার, একটি ওভারপাস এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এখন যেসব প্রকল্পের কাজ চলছে তা নির্বাচনের আগে শেষ হবে। ’

আবদুচ ছালাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম উন্নয়নে ৫০ বছর এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের মহোৎসবের দৃশ্যে আগামী বছর থেকে সুফল পাওয়া যাবে। ’

চট্টগ্রাম মহানগরে শুধু নয়, চট্টগ্রাম ঘিরে সরকারের আরো অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরকালে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।


মন্তব্য