kalerkantho


লক্ষ্য দুই লাখ কিলোমিটারের দুই কোটি মানুষ

সবুজের ‘বার্তাবাহক’ রাজ

মাগুরা প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সবুজের ‘বার্তাবাহক’ রাজ

ভারতের হরিয়ানার ভুনা গ্রামের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রাজ পাণ্ডে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ২০০টি দেশে পরিবেশ সুরক্ষার সবুজ বার্তা পৌঁছে দিতে চান ভারতের হরিয়ানার ভুনা গ্রামের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রাজ পাণ্ডে (৩৭)। সাত মাসে ভারত, শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শুক্রবার যশোরের বেনাপোল সীমান্তপথে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।

একই দিন রাতে মাগুরায় অবস্থান করে গতকাল শনিবার সকালে বাইসাইকেলে যাত্রা করেন ঢাকার উদ্দেশে। রাজের লক্ষ্য, সারা বিশ্বে বাইসাইকেল দিয়ে অন্তত দুই লাখ কিলোমিটার পথ ঘুরে দুই কোটি মানুষের কাছে পরিবশে সচেতনতার বার্তা দেবেন। এ কাজের জন্য তিনি সময় ধরেছেন ১০ বছর। আর এ ১০ বছর তিনি থাকবেন তাঁর প্রিয় বাইসাইকেলের ওপর। রাজ মনে করেন, তাঁর লক্ষ্যমাত্রার অন্তত ১ শতাংশ মানুষ যদি সচেতন হয়, তবু তাঁর এ বিশ্ব ভ্রমণ সার্থক হবে। তিনি তাঁর এই ভ্রমণের নাম দিয়েছেন ‘হুইলস ফর গ্রিন’।

রাজ জানান, ২০০৬ সালে তিনি ও তাঁর স্ত্রী কবিতা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর নিজ জেলা হরিয়ানার হিসারে একটি হাসপাতাল তৈরি করে তাঁরা উভয়ে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন। ২০০৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মারা যান।

২০১৪ সালে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মা-বাবাও মারা যান। ২০১৬ সালে তাঁদের নির্মিত হাসপাতালটিকে একটি পরিচালনা বোর্ডের মালিকানায় (কবিতা মেমোরিয়াল চ্যারিটি হাসপাতাল) দিয়ে পরিবেশ নিয়ে কাজ করার সংকল্প করেন রাজ। আর ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী সে বছরের আগস্ট মাসেই বেরিয়ে পড়েন বাইসাইকেল নিয়ে। তিনি বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরের পছন্দের কাজটিই তিনি করছেন।

রাজ জানান, ইতিমধ্যে তিনি ভারতের পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা করেছেন। পৌঁছে দিয়েছেন পরিবেশ সচেতনতাবিষয়ক নানা বার্তা। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ আগামী ১২ মার্চ একটি সেমিনার করবেন ঢাকায়। যার আয়োজনে থাকবে ঢাকা লায়ন্স ক্লাব। সেমিনারে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক পরিবেশকর্মী অংশ নেবেন। সেমিনার শেষে পরবর্তী সাত দিন বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনি চলে যাবেন অন্য কোনো দেশে।

ডা. রাজ বলেন, ‘ক্ষণ গণনায় জীবন হয়তো স্বল্প কালের; কিন্তু কাজের পরিধিতে এটা হতে পারে সুদীর্ঘ ও স্মরণীয়। যদি সেই কাজটি হয় পৃথিবী, মানুষ ও সব ধরনের সৃষ্টির সুরক্ষাকে ঘিরে। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু বদলাচ্ছে। ফলে জীবনের ঝুঁকিও বাড়ছে। আর তাই গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা, প্লাস্টিক, পলিথিনসহ পরিবেশ বিধ্বংসী সব ক্ষতিকর পণ্য বর্জন অতি জরুরি। জরুরি কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করা। কারণ এটি শুধু পৃথিবীর সুরক্ষায় নয়, আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্যও বেশি দরকার।

আয়ুর্বেদিক এ চিকিৎসক বলেন, ‘আমি পরিবেশের পাশাপাশি মানুষ কিভাবে আজীবন সবুজ থাকতে পারে—এ ধরনের কিছু বার্তা নিয়ে সমানভাবে কাজ করছি। কারণ পরিবেশের প্রধান উপাদান মানুষ। মানুষের জন্যই এ পৃথিবী। আর উভয়কে বাঁচাতেই এ বিশ্ব ভ্রমণ। ’


মন্তব্য