kalerkantho


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্য-শিক্ষক বিরোধ শিক্ষা কার্যক্রমে ভাটা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফের মধ্যে বিরোধের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। দেড় মাস ধরে চলছে এ বৈরী সম্পর্ক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের আশঙ্কা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের এক শিক্ষকের বাসায় ডাকাতি ও হামলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করার জেরে ওই টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতি ছয় দফা দাবিতে ১৯ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করে। আর ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে আন্দোলন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে উভয় পক্ষের (শিক্ষক সমিতি-উপাচার্য) আলোচনার মাধ্যমে কিছু বিষয়ে সমাধানের আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরে শিক্ষক সমিতি। কিন্তু গত ৩ মার্চ শিক্ষক ডরমিটরিতে দুই শিক্ষকের বাসায় চুরি হলে আবারও শিক্ষক সমিতি ও উপাচার্যের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনায় শিক্ষকরা (সমিতি) নিজেদের অনিরাপদ মনে করেন ও উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

ওই চুরির ঘটনার পর শিক্ষক ডরমিটরিতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া, প্ল্যানিং কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সুপারিশ ছাড়া সব নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত সিন্ডিকেট সভা বন্ধ করার ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতি। ই-মেইলের মাধ্যমে সিন্ডিকেট সদস্যদের সিন্ডিকেট সভায় অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা।

শিক্ষক সমিতি সিন্ডিকেট সভা বন্ধের চেষ্টা করলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার উপাচার্যের বাসভবনে ৬৫তম সিন্ডিকেট সভা হয়। এরপর উপাচার্যের বাসভবনে তালা লাগিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। পরে পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে রাত ১১টায় উপাচার্যের বাসভবনের তালা খুলে দেন শিক্ষক নেতারা।

শিক্ষক সমিতির আগের (১৯ জানুয়ারি থেকে) আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের ৪৩টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত ও সব ধরনের ক্লাস বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের পদত্যাগ চায়। এর আগে গত বছরের ১ আগস্ট রাতে ছাত্রলীগ নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যার ঘটনায় প্রায় দুই মাস বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘ সেশনজটে পড়বে শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষক সমিতি ও উপাচার্যের মধ্যে সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাদের ওপর মানসিক চাপ পড়ছে। ক্লাসও ঠিকভাবে হচ্ছে না। যেকোনো ইস্যুতেই এখন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য খুব হতাশা ও দুঃখের। শিক্ষকরা আন্দোলন করলেও ক্লাস-পরীক্ষায় যেন এর কোনো প্রভাব না পড়ে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। সিন্ডিকেট সভা না করার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম। উপাচার্য আমাদের কোনো কথাই রাখেননি। তাই এখন থেকে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব। ’

উপাচার্য ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় শিক্ষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার তাঁরা অযৌক্তিক কিছু দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। আমার বাসভবনে তাঁরা যেভাবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছেন, তা কখনোই শিক্ষকসুলভ নয়। শিক্ষকদের বর্তমান কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কাম্য নয়। ’


মন্তব্য