kalerkantho


ভারতীয় কিশোরীকে মিথ্যা তথ্যে বিয়ে, নির্যাতন

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিয়ের ফাঁদে পড়ে ভারত থেকে পাচার হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আসা এক কিশোরী স্বামীর নির্যাতনের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশ্রয় নিয়েছে। তাকে সেখানে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

নির্যাতিত ওই কিশোরীর নাম রেজিনা আহম্মেদ (১৭)। সে ভারতের আসামের সুনিতপুর জেলার তেজপুরের মহা ভৈরব থানার গুটলং বিতোসুতি গ্রামের পিকআপচালক আব্দুর রশিদ ও মাজেদা বেগমের মেয়ে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। তার স্বামী সাগর শেখ (২৮) পার্বতীপুর শহরের রোস্তমনগর মহল্লার সুজন শেখের ছেলে।

সূত্র জানায়, সাগর শেখ অবৈধভাবে ভারতে থাকাকালে রেজিনাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। তিন মাস ঘর-সংসার করার পর কলকাতায় নিজ বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে রেজিনাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরে নিয়ে আসে সাগর। এখানে প্রায় দুই মাস ধরে মেয়েটি অবস্থান করছে। এ সময় তাকে প্রায়ই অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। গত মঙ্গলবারও রেজিনাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে সাগর।

পরে সে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজন শেখ ও তার লোকজন রেজিনাকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ উপস্থিত হলে তারা রেজিনাকে রেখে পালিয়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার রেজিনা জানায়, সাগর শেখ কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। কিছুদিন পর লোকমুখে শুনে রেজিনা জানতে পারে, সে যেখানে অবস্থান করছে সেটা বাংলাদেশ। বর্তমানে সে প্রশাসন ও থানা-পুলিশের আশ্রয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছে।

রেজিনা জানায়, তার মা-বাবা সংবাদ পেয়ে তাকে উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে তাঁরা হিলি স্থলবন্দরের চেকপোস্টে অবস্থান করছেন।

পার্বতপুর মডেল থানার ওসি মোস্তাক হোসেন গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘মেয়েটির বা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তাকে তার দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। ’

পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এইচ এম রোরহান উল ইসলাম জানান, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজিনার মা-বাবা ভারত থেকে না আসা পর্যন্ত তাকে এখানে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হবে।

 


মন্তব্য