kalerkantho


সড়ক দুর্ঘটনা

তিন জেলায় ছাত্রসহ তিনজন নিহত

দাগনভূঞায় পিকনিকের বাস খাদে, আহত ২২

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সড়ক দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দুই ছাত্র এবং শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। ফেনীর দাগনভূঞায় পিকনিকের বাস ও সিমেন্টবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ২২ জন। ঘটনাগুলো ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ও গতকাল শুক্রবার। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

শেরপুর : ঝিনাইগাতীর জামতলী নওকুচি এলাকায় গতকাল বিকেলে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহতের নাম সজল হাজং (২৭)। তিনি উপজেলার নওকুচি গ্রামের সন্তোষ হাজংয়ের ছেলে। ঝিনাইগাতী থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ থেকে বনভোজন শেষে ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ-১৫৫১৮৩) ঝিনাইগাতী-গজনী সড়কের ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজলকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত সজলকে স্থানীয়রা ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

হবিগঞ্জ : মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দরগাহ গেট এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনা পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত কলেজ ছাত্রের নাম আবু বকর (২২)। তিনি মাধবপুরের হরিতলা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, সন্ধ্যায় আবু বকর কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় সিলেটগামী এনা পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত আবু বকরকে লোকজন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

চুয়াডাঙ্গা : দামুড়হুদার আরামডাঙ্গায় গতকাল সকালে ট্রাক্টরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্কুল ছাত্র ইছানুল হক (১২) মারা গেছে। সে উপজেলার ঠাকুরপুরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ও ঠাকুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। দামুড়হুদা থানার ওসি আবু জিহাদ মোহাম্মদ ফকরুল আলম খান জানান, সকাল ১০টার দিকে বাইসাইকেল চালিয়ে নিজ গ্রাম থেকে কার্পাসডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিল ইছানুল। ঠাকুরপুর-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের আরামডাঙ্গায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয় সে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ট্রাক্টরটি জব্দ করেছে পুলিশ।

ফেনী : গতকাল ভোরে দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের তুলাতলী বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও অন্য সূত্র জানায়, নোয়াখালীর মাইজদীর মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির পিকনিকের একটি বাস (একুশে মুন সার্ভিস) ৬০ জন যাত্রী নিয়ে রাঙামাটি যাচ্ছিল। পথে তুলাতলীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে মাইজদীর মানিক মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা, বেনু চন্দ্র সাহার ছেলে বিকাশ, জাহাঙ্গীরের ছেলে শাহজাদা, সোনাপুরের কাউছারা বেগম, মানিক মিয়ার ছেলে জাহিদ, বিকাশ চন্দ্র সাহার স্ত্রী লক্ষ্মী রানী সাহা, মো. রাসেলের স্ত্রী পলি, তাজুল ইসলামের ছেলে নাহিদ, শিশু মোহাম্মদ আলী, নাজিম উদ্দিনের ছেলে জাহিদ, আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ হাসান, নজরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম, নাজমা, শাহানাসহ ২০-২২ জন বাসযাত্রী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে ১৩ জন দাগনভূঞা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নোয়াখালী ফিরে যায়। বাকিরা নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসরিন সুলতানা ১৩ জন আহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দাগনভূঞা থানার ওসি আসলাম উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় ১৩ বাসযাত্রী আহত হয়েছে। বাস ও ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ।


মন্তব্য