kalerkantho


লৌহজংয়ের উয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শ্রেণিকক্ষ কম, চালু হচ্ছে না অষ্টম

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শ্রেণিকক্ষ কম, চালু হচ্ছে না অষ্টম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগের উয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে দুজনের বেঞ্চে চারজন ঠাসাঠাসি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের উয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২০১৬ সালের মধ্যে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার কথা ছিল। কিন্তু ভবন বা শ্রেণিকক্ষের অভাবে সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান (ক্লাস) করাই কষ্টসাধ্য।

ফলে বন্ধ করে দিতে হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস। শিক্ষক সংকটও রয়েছে। এসব কারণে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির এই বিদ্যালয়ে। চালু করা যাচ্ছে না অষ্টম শ্রেণি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমারভোগ ইউনিয়নে একটি দোতলা ভবনের ওই বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র পাঁচটি। অথচ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬০। এই বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষে পাঠ দেওয়া কষ্টসাধ্য। দুই শিফটে ক্লাস নিয়েও ছাত্রছাত্রীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ঠাসাঠাসি করে বসার কারণে এক শিক্ষার্থী লিখতে গেলে পাশেরজন একটু নড়াচড়া করলেই লেখা হয়ে যাচ্ছে যাচ্ছেতাই।

পড়াশোনায় মন দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

উয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদা বেগম জানান, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় পরীক্ষায় বরাবরই ভালো ফল করে। কিন্তু ভবন বা শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ছোট শ্রেণিকক্ষে জায়গা না হওয়ায় দুই শিফটে ক্লাস নিতে হচ্ছে। তার পরও দুজনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে চার শিক্ষার্থীকে। এতে পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকেরও সংকট আছে। ১১ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন আটজন।

প্রধান শিক্ষক আরো জানান, সরকারের শিক্ষানীতি অনুযায়ী ২০১৬ সালের মধ্যে এই বিদ্যালয় অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি চালু করা হয়। ২০১৫ সালে চালু করা হয় সপ্তম শ্রেণি। এক বছর সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করানো হয়েছে বারান্দায়। কিন্তু নতুন ভবন বা শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে না পারায় ২০১৬ সালে অষ্টম শ্রেণি চালু করা তো দূরের কথা সপ্তম শ্রেণির ক্লাসও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কারণ খোলা বারান্দায় সন্তানদের ক্লাস করাতে আগ্রহী নয় অভিভাবকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি বারবার জানালেও নতুন একটি ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করতে পারেনি তারা। নতুন একটি ভবন হলেই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করা যাবে। শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে পাঠদানও সম্ভব হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের মিয়া জানান, উপজেলায় মাত্র দুটি বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করার অনুমোদন মিলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। এর একটি উয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদলালয়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় থেকে যতগুলো বিদ্যালয়কে সম্ভব অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার তাগিদ রয়েছে। কিন্তু ভবনের অভাব, শিক্ষক সংকটসহ নানা কারণে এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। উয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি চালু করা হলেও শ্রেণিকক্ষ বা ভবনের অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। সরকার এখানে একটি ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করলে দ্রুতই অষ্টম শ্রেণি চালু করা যাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন জানান, উয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পেপমিস সফটয়্যারে যাবতীয় তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ তথ্য দেওয়া হবে। তথ্য মতে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চাইলেই বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণ সম্ভব।


মন্তব্য