kalerkantho


ঝড়ে স্পিডবোট উল্টে নিহত ২

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মুন্সীগঞ্জের পদ্মা নদীতে গত বুধবার বিকেলে ঝড়ের সময় স্পিডবোট উল্টে যাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল দুই। একই ঘটনায় আরো দুজন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারে দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশ চষে বেড়াচ্ছে স্বজনরা।

নিহত বাকেলা বেগম (৪১) ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার এ রউফ শিকদারের স্ত্রী। গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের ৩০০ মিটার দূরে পদ্মার চরে তাঁর লাশ ভেসে উঠে। এর আগে বুধবার এ দুর্ঘটনায় আহত লাবিব হালদার (১০) ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে মারা যায়। লাবিব শরিয়তপুরে ফুটিকঝুড়ির জয়নাল হালদারের ছেলে। নিখোঁজ রয়েছেন তাহমিনা আক্তার (১২) ও ইকবাল শিকদার (৪৬)। তাহমিনা ঢাকার কামরাঙ্গীরচর আইডিয়াল বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে কামরাঙ্গীরচরের বড়গাঁওয়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মতি খানের মেয়ে।

কন্যার নিখোঁজের কথা শুনে তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মেয়েটি দাদির সঙ্গে একটি মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি গ্রামে যাচ্ছিল।

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মাঝিকান্দিগামী স্পিডবোট ১৮ যাত্রী নিয়ে লৌহজং টার্নিংয়ে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে। সরু চ্যানেলে কয়েকজন যাত্রী লাফিয়ে চরে নেমে পড়ে। তিনজন নিখোঁজ হয়। ঝড় শেষে যাত্রীরা অন্য স্পিডবোটে করে গন্তব্যে ফেরে। তবে লাফিয়ে পড়ে এবং শিলাবৃষ্টিতে ঠাণ্ডায় লাবিব ও তার মা মিসেস জয়নাল হালদার অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের শিমুলিয়া ঘাটে আনা হয় অন্য স্পিডবোটে। পুলিশ প্রথমে তাঁদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখান থেকে তাঁদের ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় লাবিব মারা যায়। তবে তার মা শঙ্কামুক্ত। শিমুলিয়া ঘাট দিয়েই ছেলের লাশ নিয়ে মা ও পরিবার-পরিজন শরীয়তপুরে ফেরেন। সি-বোটটি ঝড়ের পরপরই উদ্ধার করে নিয়ে যায় মালিক মিঠু মাঝি। এর চালক হালেম।

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নৌপুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নিয়ে উদ্ধার তত্পরতা চালিয়েছে। ’


মন্তব্য