kalerkantho


ময়মনসিংহে ইলিজারভ চিকিৎসা নিয়ে সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আঘাতজনিত বা বিকলাঙ্গ রোগে হাত-পা কেটে ফেলার আগে ইলিজারভ পদ্ধতির (খাঁচা পদ্ধতি) চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা বলেছেন, বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেশে অর্থোপেডিক ও ট্রমা রোগী দিন দিন বাড়ছে। তাই এ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরো যুগোপযোগী করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের শাহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইলিজারভ অর্থোপেডিক্স সেন্টারে এক সেমিনারে চিকিৎসকরা এ কথা বলেন। ইলিজারভ চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর আলোচনা করেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান মানিক। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন কবীর মুকুল। সেমিনার পরিচালনা করেন ডা. মো. মোর্শেদুল হক।

ডা. কামরুজ্জামান মানিক বলেন, ইলিজারভ ১৯৫০ সালে রাশিয়ায় আবিষ্কৃত অর্থোপেডিক্স শাস্ত্রের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। অর্থোপেডিক্সে অন্য গতানুগতিক চিকিৎসা পদ্ধতির যেখানে শেষ, সেখানে এর শুরু। এটি একই সঙ্গে সফট ও হার্ড টিস্যুর চিকিৎসা। শিশু থেকে বৃদ্ধ যেকোনো বয়সের চিকিৎসা করা যায়।

এর মেয়াদকাল চার মাস থেকে এক বছর মেয়াদি। মূলত হাত-পা কেটে ফেলার একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি এটি। গত বছর তিনি দক্ষিণ কোরিয়া গিয়ে এ ব্যাপারে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

ডা. মানিক বলেন, গত তিন বছরে ময়মনসিংহে মোট ১৯ জন রোগীকে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঢাকায়ও এ চিকিৎসা পদ্ধতি চালু আছে। সরকারি হাসপাতালে ১৩-১৪ হাজার টাকায় এ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

ডা. হুমায়ুন কবীর মুকুল বলেন, এ পদ্ধতির কারণে বেশ কিছু রোগীর হাত-পা আর কাটতে হয়নি। এ পদ্ধতিটি দেশে জনপ্রিয় হোক এবং সব স্থানে এ চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে উঠুক এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।


মন্তব্য