kalerkantho


দীঘিনালায় তরুণদের ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মানুষকে বইমুখী করে মন থেকে কুসংস্কার দূর করতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার চালু করেছেন কয়েকজন তরুণ। সপ্তাহে দুই দিন তাঁরা নিজেরাই রিকশা-ভ্যানে ঘুরে ঘুরে বই নিয়ে পৌঁছান বইপ্রেমীদের কাছে।

শিশু-কিশোর ও শিক্ষিত নারী-পুরুষ সবার কাছে তা দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উপজেলার বড়াদম বাজার এলাকার থিংকারস লাইব্রেরিটি  মার্চের প্রথম দিনেই ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ৪ মার্চ থেকে শুরু হয় লাইব্রেরিটির কার্যক্রম। ইতিমধ্যে প্রায় শখানেক সদস্য সংগ্রহ হয়েছে বলে পাঠাগারের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

নিয়মিত বই পড়ার জন্য সদস্য হয়েছেন বাবুছড়া এলাকার উজ্জ্বল চাকমা (২০)। উজ্জ্বল জানান, পছন্দের বই এখন বাজারের সব লাইব্রেরিতে পাওয়া যায় না। আর কিনে এত বই পড়াও হয়ে উঠে না। এখন ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের সদস্য হওয়াতে ঘরে বসেই বই পাচ্ছেন তিনি। সপ্তাহে একবার সব ধরনের বই নিয়ে হাজির হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার।

পাঠাগার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক চাকমা জানান, তাঁদের সংগ্রহে প্রায় ২০০ বই রয়েছে। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। মনীষীদের জীবনী, উপন্যাস, শিশুদের জন্য কৌতুকের বই ও গোয়েন্দা সিরিজ সংগৃহীত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

প্রতি শনিবার বড়াদম থেকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি নিয়ে যাওয়া হয় বাবুছড়ামুখ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত। এ পথে কান্দরপা দোকান, পুকুরঘাট, কার্বারি টিলা, উদাল বাগান উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘাইছড়ি আনন্দবাজার, নোয়াপাড়া, বাবুছড়া পুরাতন বাজার, আদর্শ স্কুল, বাবুছড়া নতুন বাজার ও বাবুছড়ামুখ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় বই বিতরণ করা হয়। আর প্রতি রবিবার বড়াদম থেকে যাওয়া হয় দীঘিনালা উপজেলা সদর পর্যন্ত। এ পথে আমতলি দোকান, বানছড়া উচ্চ বিদ্যালয়, হেডম্যান পাড়া দোকান, নারিকেল বাগান দোকান, শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দীঘিনালা কলেজ, লারমা স্কোয়ার, দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় বই দেওয়া হয়।

পাঠাগারের সভাপতি লেখক কে বি দেবাশিষ চাকমা বলেন, ‘শিক্ষিত লোকদের মধ্যে আগে পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ’


মন্তব্য