kalerkantho


গোয়ালন্দে ভুয়া পুলিশের দণ্ড

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গোয়ালন্দে ভুয়া পুলিশের দণ্ড

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক ভুয়া গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাবনায় অভিযান চালিয়ে একটি নকল ওষুধ ও এনার্জি ড্রিংক কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব।

কারখানাটি থেকে প্রায় কোটি টাকা দামের উত্তেজক এনার্জি ড্রিংক, নকল ওষুধ, ড্রিংক তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক জব্দ করাসহ মালিককে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফরিদপুরে একটি ওষুধ কারখানার মালিক ও ময়মনসিংহে দুটি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব অভিযান চালানো হয়। কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর :

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : দণ্ডিত গোলাম ফেরদৌস খুলনা শহরের ডাকবাংলা মোড় এলাকার বাসিন্দা। গোয়ালন্দ ঘাট থানা সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ‘শাহ্জালাল’ ফেরিতে দূরপাল্লার একে ট্রাভেলস বাসের এক যাত্রীর পকেট কাটতে গিয়ে ধরা পড়ে ফেরদৌস। এ সময় সে নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়। পরে ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড়লে যাত্রীরা তাকে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় সোপর্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ফেরদৌস গোয়েন্দা কর্মকর্তা নয়। গতকাল সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবীবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাসযাত্রীর টাকা চুরির চেষ্টাসহ গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে তাঁকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    

পাবনা : পৌর এলাকার জুবিলি ট্যাংকপাড়া মহল্লার অনুমোদনহীন ‘ডোরা ফুড প্রডাক্টস’ নামের নকল এনার্জি ড্রিংক ও নকল ওষুধ তৈরির কারখানায় দুপুরে অভিযান চালানো হয়। পরে কারখানার মালিক জুবিলি ট্যাংকপাড়ার হায়দার আলীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছমিন মনিরা অনুমোদনহীন নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার দায়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানে জব্দ করা পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্টে রুহুল আমিন জানান, হায়দার তাঁর বাড়িতে অনুমোদনহীন ‘ডোরা ফুড প্রডাক্টস’ গড়ে তোলেন। কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে নামসর্বস্ব বিভিন্ন কম্পানির মোড়কে যৌন উত্তেজক নকল এনার্জি ড্রিংক, সফট ড্রিংক, হজমি, ওরাল স্যালাইন, হার্বাল সিরাপ ও ওষুধ উৎপাদন করে বাজারজাত করা হচ্ছিল।

ফরিদপুর : শহরের টেপাখোলা এলাকার বৃন্দাবনের মোড়ে অবস্থিত ‘বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস’ ওষুধ কারখানার মালিক ফজলুল কবির চাঁদকে কারখানায় অনিয়মের অভিযোগে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন ফরিদপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ মল্লিক। সূত্র জানায়, অভিযানকালে আদালত ওই ওষুধ কারখানায় বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন নামি ওষুধের প্যাকেট ও লেবেলের ডিজাইন অনুকরণে ওষুধ প্রস্তুত করে বিপণন, অনুমোদিত ওষুধের লোগো বা ডিজাইন পরিবর্তন করা, ওষুধের কার্টনে বা পাতায় প্রস্তুত ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে কারখানা মালিককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানকালে র‌্যাব-৮, ফরিদপুর ক্যাম্পের কমান্ডার রইসউদ্দিন, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. মাহমুদুর রহমান ও ড্রাগ সুপার কার্যালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহ : শহরের রোম-থ্রি কনফেকশনারিতে অভিযান চালিয়ে রাসায়নিক দ্রব্য, পচা ডিম ও নষ্ট খামির জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনিয়া চৌধুরী এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এদিকে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়ার অভিযোগে ওমর বেকারিকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক ইমন।


মন্তব্য