kalerkantho


রৌমারীতে ভিজিডি তালিকা কাটছাঁট করলেন ইউএনও

ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষোভ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় দুস্থ নারীদের তালিকা কাটছাঁট করা হয়েছে। গত বুধবার উপজেলার ছয় ইউনিয়নের ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় চূড়ান্ত দুস্থদের তালিকা প্রকাশ করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

তাতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দেওয়া তালিকা থেকে ১৬০ জনের নাম বাদ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওই স্থানে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিষয়টিকে এখতিয়ারবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা। এ ক্ষেত্রে তাঁরা দুর্নীতিরও অভিযোগ তুলেছেন।

কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, যথাসময়ে দুস্থদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই তালিকা থেকে দেড় শর বেশি নাম বাদ দিয়ে নতুন নাম ঢুকিয়েছেন। তাতে প্রতি ইউনিয়ন থেকে ২৫ থেকে ৪০ জন দুস্থর নাম কাটা হয়েছে। চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, নতুন অন্তর্ভুক্ত দুস্থদের কাছ থেকে তিন-চার হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় গত জানুয়ারি থেকে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৪ মাস মেয়াদি তিন হাজার ২৫৩ জন দুস্থর তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয় ইউপি চেয়ারম্যানদের। তাতে তালিকাভুক্ত প্রতি দুস্থ পরিবার বিনা মূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে।

ওই তালিকা দাখিল করার শেষ সময় ছিল গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। দাখিল করা তালিকা উপজেলা মাসিক সভায় অনুমোদনের পর সেটা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সময়মতো তালিকা দাখিল ও মাসিক সভায় অনুমোদনে দেরি হওয়ায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বরাদ্দ চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দুই মাসের বরাদ্দ একসঙ্গে বিতরণ করা হবে।

সূত্রের দাবি অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন তালুকদার তাঁর গাড়িচালক ও পিয়নকে দিয়ে দুস্থদের তালিকা তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে দুস্থদের কাছ থেকে তিন-চার হাজার করে টাকা নেওয়া হয়। এ হিসাবে প্রায় ছয় লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন অভিযোগ করেন, ‘নীতিমালা অনুসারে আমরা তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছি। ইউএনও স্যার সেখান থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নাম বাদ দিয়ে তাঁর নিজের নাম ঢুকিয়েছেন। এটা তিনি করতে পারেন না। ’ একই কথা বলেন চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘আমার তালিকা থেকে ৩৯টি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এভাবে ঢালাওভাবে নাম কেটে সেখানে তিনি নতুন নাম দিতে পারেন না। কোনো নামের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তিনি ইউনিয়ন কমিটির কাছে সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা না করে ব্যবসা করেছেন। ’

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা তপন কুমার সরকার বলেন, ‘নাম কাটা বা নতুন নাম ঢোকানোর বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন দিয়েছে। সেই তালিকা আমি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। ’

তবে দুস্থদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, ‘আমার কাছেও তো গরিব-দুস্থরা সাহায্যের জন্য আসে। আমি ইউএনও আর আমি নাম দিতে পারব না? হ্যাঁ, ইউএনও হিসেবে কিছু নাম আমি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। ’ কে দরিদ্র আর কে নয়, তা তো আপনার চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভালো জানার কথা—এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি, তারা সবাই দুস্থ। খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। ’


মন্তব্য