kalerkantho


রংপুরে একজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রংপুরে একজনের মৃত্যুদণ্ড

রংপুরের মিঠাপুকুরে স্কুল শিক্ষার্থী আম্বিয়া খাতুনকে (১৩) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে আসামি সফিউদ্দিনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় দেন।

একই দিন শেরপুরে কিশোর বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলায় তিনজনকে ও নাটোরের লালপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

রংপুর (আঞ্চলিক) : দণ্ডিত সফিউদ্দিন মিঠাপুকুর উপজেলার খামার কুর্শা গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, খামার কুর্শা গ্রামের মৃত খমির উদ্দিনের ছেলে সোলায়মান মিয়ার সঙ্গে সফিউদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই সন্ধ্যায় সোলায়মানকে খুন করার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িতে যান সফিউদ্দিন। সোলায়মানকে না পেয়ে তাঁর বড় ভাই আমিন উদ্দিনের মেয়ে আম্বিয়া খাতুনকে সফিউদ্দিন উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পরের দিন সফিউদ্দিনসহ চারজনকে আসামি করে সোলায়মান মিয়া মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে সফিউদ্দিনকে অভিযুক্ত করে ১৯৯৬ সালের ১৯ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আকতারুজ্জামান পলাশ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সুলতান আহমেদ শাহীন। রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী সোলায়মান মিয়া।

শেরপুর : শেরপুরে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন এ রায় দেন। দণ্ডিতরা হলো সদর উপজেলার শেরিঘাট এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে ছানুয়ার হোসেন ওরফে মান্নান (১৫), শাহাদত হোসেনের ছেলে বিশু মিয়া (১৪) ও শ্রীবরদী উপজেলার গিলাগাছা গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে নুর হোসেন (১৬)। তাদের মধ্যে ছানুয়ার পলাতক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দণ্ডিত ওই তিন কিশোর রেস্টুরেন্টে কাজের পাশাপাশি চোরদলের সদস্য ছিল। ২০১১ সালের ২৩ মে নূর হোসেন একটি মোবাইল ফোন চুরির পর বিক্রি করে। শেরপুর শহরের নবীনগরের মকবুল হোসেনের ছেলে রেস্টুরেন্ট কর্মচারী বিল্লাল হোসেন (১২) তা দেখে ফেলে এবং টাকার ভাগ চায়। কিন্তু নূর টাকা দিতে অস্বীকার করে। পরদিন বিল্লাল কয়েকজনের সামনে নূরকে চোর বলে গালি দেয়। এর জেরে ২৪ মে রাতে সদর উপজেলার বয়রা পরানপুর ভাটারাঘাটের মৃগী নদীর তীরে ওই তিনজন বিল্লালকে পা বেঁধে গরুর ধারালো হাড় দিয়ে গলা ও পেট কেটে হত্যা করে একটি ট্রাংকে ঢুকিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। পরদিন জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে ট্রাংকটির খোঁজ পায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই তিনজনের নামে দুটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান একই বছরের ৩১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি ইমাম হোসেন ঠাণ্ডু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নান ও আব্দুল মজিদ জানান, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

নাটোর : যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল হোসেন লালপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। গতকাল সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এ আদেশ দেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২১ মে জামাল হোসেন পুত্রবধূকে ধর্ষণ করেন। এলাকাবাসী জামাল হোসেনকে আটক করে পুলিশে দেয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর ওই বধূ শ্বশুরের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জামাল হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।


মন্তব্য