kalerkantho


কোটালীপাড়ায় ধর্ষণচেষ্টার বিচার সালিসে রফা

তিন যুবককে লাখ টাকা জরিমানা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কোটালীপাড়ায় ধর্ষণচেষ্টার বিচার সালিসে রফা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাদরাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় গত বুধবার রাতে সালিস হয়। সালিসে অভিযুক্ত ৩ বখাটেকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিটি গোপনে মোবাইল ফোনের ক্যামরায় তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টা সালিসে মীমাংসা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে মাতবররা তিন বখাটে যুবককে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ সালিসে মীমাংসাযোগ্য নয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদরাসার নবম শ্রেণিতে পড়ে। গত বুধবার সকালে একটি এনজিও থেকে তার মায়ের ঋণের টাকার কিস্তি দিতে পাশের বাড়ি যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে স্থানীয় প্রভাবশালী রওশন চৌধুরীর ছেলে রুমান চৌধুরী (১৭), পান্নু চৌধুরীর ছেলে লেলিন চৌধুরী (১৯) ও কাইয়ুম চৌধুরীর ছেলে সাগর চৌধুরী (১৮) যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে রাতে কান্দি গ্রামের রুস্তুম মাস্টারের বাড়িতে এক সালিস বৈঠক বসে। এতে উপস্থিত ছিলেন কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাবিবুল্লাহ শেখ ও এয়াকুব আলী শেখ, স্থানীয় ইউনুস ব্যাপারি, রিয়াজ চৌধুরী এবং গাউছ চৌধুরী। বৈঠকে অভিযুক্ত তিনজনকে জরিমানা করা হয়।

সালিসকারী রিয়াজ চৌধুরী বলেন, ‘আমি বৈঠক শেষ হওয়ার আগে বাড়ি চলে আসি।

অন্য সালিসদাররা কী রায় দিয়েছেন, আমার জানা নেই। ’

কুশলা ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী ও হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের জরিমানা করা সালিসদারদের এখতিয়ারের বাইরে। দরিদ্র ঘরের মেয়ের কলঙ্ক বাইরে জানাজানি হলে তাকে আর বিয়ে দেওয়া যাবে না, এ কারণে যতটা গোপন রাখা যায়, তার ব্যবস্থার জন্য এই পথ বেছে নিয়েছি। ’

ছাত্রীর মা বলেন, ‘দুই মেয়েকে নিয়ে এখন আতঙ্কে রয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি বড় মেয়েকে আর লেখাপড়ার জন্য মাদরাসায় পাঠাব না। বখাটেরা আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তারা যেন অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা না ঘটায়, আমি সমাজপতি এবং সরকারের কাছে এ দাবি জানাই। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বানিয়ারী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলে, ‘তিন বখাটে যে কাজটি করেছে তা সালিস অযোগ্য অপরাধ। এদের আইনের হাতে সোপর্দ করা উচিত ছিল। যদি টাকা দিয়ে মিটমাট করা হয়, তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ বাড়বে। ’

কোটালীপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তদন্ত চলছে। মেয়ের পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। মামলা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য