kalerkantho


কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানায় ভাঙচুর

শ্রমিকদের মারধরে আহত ১০ কর্তা

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বকেয়া বেতন না পেয়ে তৈরি পোশাক কারখানার ভেতর ভাঙচুর চালিয়েছে শ্রমিকরা। এ সময় তাদের মারধরে অন্তত ১০ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় হুড়াহুড়ি করে বের হতে গিয়ে আহত হয়েছে কমপক্ষে পাঁচ শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার ‘হেসং বিডি লিমিটেড’ কারখানায়। আহত সবাইকে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ, শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, হেসং বিডি লিমিটেড কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত ছুটির টাকা পরিশোধ, ছাঁটাইসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলে আসছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরে শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। একপর্যায়ে কর্তৃপক্ষ নোটিশের মাধ্যমে কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিকদের অর্জিত ছুটির টাকা আগামী মে মাসে দেওয়ার কথা জানায়। এতে শ্রমিকরা রাজি হয়। আট দিন পর গতকাল সকালে তারা কাজে যোগ দেয়।

তবে দুপুরে শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দাবি করে। এ সময় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় আগামী সোমবার বেতন দেওয়া হবে। এতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা আজকের (গতকাল) মধ্যে বেতন দেওয়ার দাবিতে কারখানার ভেতর বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কারখানার বিভিন্ন ফ্লোরের গ্লাস, টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় শ্রমিকরা জিএম মাহে আলম, পিএম মজনু মিয়া, এপিএম সাগর আহমেদ ও মার্চেন্ডাইজার মো. আলীসহ অন্তত ১০ কর্মকর্তাকে মারধর করে। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় দ্রুত কারখানা থেকে বের হতে গিয়ে কমপক্ষে পাঁচ শ্রমিক আহত হয়। আহত সবাইকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বাড়ইপাড়ার ফাতেমা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। কারখানার জিএম (অ্যাডমিন) দুলাল কুমার বন্দে বলেন, ‘আট দিন পর গতকাল সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়। দুপুরে তারা গত মাসের বেতন দাবি করে। এ সময় বেতন আগামী সোমবার দেওয়ার কথা বললে শ্রমিকরা কারখানায় ভাঙচুর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা অন্তত ১০ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। শ্রমিকরা কারো ইন্ধনে এবং পরিকল্পিতভাবে এ ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ’ এ ব্যাপারে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর ওসি শহিদুল্লাহ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


মন্তব্য