kalerkantho


মুরাদনগরে যৌতুক না পেয়ে আসর ছাড়ল বর

বাগেরহাটে বিয়েবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা

বাগেরহাট ও মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মুরাদনগরে যৌতুক না পেয়ে আসর ছাড়ল বর

“বাবা আমি মানুষের বাড়িতে কাম কইরা সংসার চালাই। অনেক কষ্টে ধার-দেনা কইরা মাইয়াডারে বিয়ে দেওনের লাইগ্গা একটা ফিরিজ (ফ্রিজ) কিন্না দিছি।

কতা আছিল, ফিরিজ দিলে নগদ ট্যাহা দেওন লাগত না। বিয়ার দিন সবাই খাওনের পরে বিয়া পড়াইব। পোলার বাপে কয়, ‘নগত ৬০ হাজার ট্যাহা না দিলে বিয়া হইব না। আগে ট্যাহা পরে বিয়া। ’ ট্যাহা দিতে পারি নাই। তাই আমার মাইয়ার বিয়া হয় নাই। উল্টা হ্যারা মাইর-ধর কইরা গেছে। ” গতকাল বৃহস্পতিবার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় শুয়ে কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলেন আনোয়ারা বেগম। গত বুধবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন উপজেলার টনকী ইউনিয়নে তাঁর মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাত বছর আগে মেয়ের বাবা মারা গেছেন। তার মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার (তিন মেয়ে ও দুই ছেলে) চালান। কিছুদিন আগে মেয়েটির বিয়ের প্রস্তাব আসে উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে। বরপক্ষ যৌতুক হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। কনেপক্ষ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে টাকার পরিবর্তে একটি ফ্রিজ দেওয়ার কথায় সম্মত হন কনের মা। কথামতো বিয়ের আগেই ফ্রিজ কিনে বরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার বিয়ের যথাযথ আয়োজন সম্পন্ন করে মেয়ের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। যথাসময়ে বরপক্ষ এলে তাদের খাওয়াদাওয়া হয়। বিয়ে পড়ানোর আগ মুহূর্তে বরের বাবা রবি মিয়া পুনরায় ৬০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে বিয়েবাড়িতে শুরু হয় হইচই। একপর্যায় বরপক্ষের লোকজন কনেসহ তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের ওপর হামলা চালায়। এতে কনে, তার মা, দুই মামা, তিন চাচাসহ ১০ জন আহত হয়। বরপক্ষ বিয়ে না পড়িয়ে চলে যায়। আহত কনেসহ কয়েকজনকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মেয়ের চাচাতো ভাই আমজাদ হোসেন বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু, টনকী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুর রহিমের মধ্যস্থতায় সালিস বসে। কনেপক্ষকে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ও তাদের যৌতুক হিসেবে দেওয়া ফ্রিজটি ফেরত দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করা হয়। গতকাল বরের বাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

টনকী ইউপি সদস্য রহিম মিয়া বলেন, ‘যৌতুকের কোনো বিষয় না, কিছু কসমেটিকস নিয়ে দ্বন্দ্ব হওয়ার কারণে বিয়ে ভেঙে গেছে। ’ বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। থানার ওসি ছুুটিতে আছেন। ওসি এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মুরাদনগর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোসা. পারভিন আক্তার বলেন, ‘যৌতুক দাবি করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের বলেন, ‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’

এদিকে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ী গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি বিয়ে বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে ইদ্রিস শেখ (৬০), এহিয়া শেখ (৩৫), রফিক শেখ (৩৪), মছিরোননেছা (৪০), বিলকিস বেগম (২৮), আশরাফ শেখ (৫০) এবং পারুল বেগম (৪৫) চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আহত ইদ্রিস শেখের ছেলে সিরাজ জানান, তাঁর ছোট বোনের বিয়ে শুক্রবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে আত্মীয়স্বজন আসতে শুরু করেছে। বাড়িতে রান্নাবান্না চলছিল। হঠাৎ করে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী দুই দিক থেকে ঘিরে বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁদের বাড়ির নারী-পুরুষসহ ১০ জনকে বেধড়ক মারধর এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আহত করে। তারা বিয়ের প্যান্ডেল ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় তারা নগদ টাকা, স্বর্ণলংকার এবং বিভিন্ন মালামাল লুট করে।

সিরাজ শেখের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তাঁদের গ্রামের আলম শেখ খুন হয়। তাদের বংশের লোকজন ওই মামলার সাক্ষী। এ নিয়ে আসামি পক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহাগ শেখ আসামিদের পক্ষে। এর জের ধরে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।


মন্তব্য