kalerkantho


রূপগঞ্জে পরিবহনে চাঁদাবাজি

সাত স্পটে হাতবদল মাসে ৩০ লাখ টাকা

এস এম শাহাদাত, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাত স্পটে হাতবদল মাসে ৩০ লাখ টাকা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সাতটি স্পটে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে একটি সিন্ডিকেট মাসে অন্তত ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের সুযোগ দিয়ে ওই টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর পরিবহনগুলো কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করে নিচ্ছে। এ জন্য যাত্রীদের দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল, মায়ারবাড়ী, ব্রাহ্মণখালী, কালাদি, চান টেক্সটাইল, খিলক্ষেতের কুড়িল-বিশ্বরোড ও কালীগঞ্জের মীরেরবাজার নামক স্পটে ফিটনেসবিহীন বিভিন্ন গাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। যার পরিমাণ মাসে অন্তত ৩০ লাখ টাকা। পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সরকারদলীয় নেতাদের ম্যানেজ করেই আদায় করা হচ্ছে এ চাঁদা। কাগজপত্র না থাকার সুযোগে ওই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে পরিবহনগুলো কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করে নিচ্ছে। এ জন্য যাত্রীদের দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ভাড়ায়চালিত ‘প্রাইভেট কার’, সিএনজি স্টেশনের সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তালাল, সুপারভাইজার মাসুম, আয়ুব, আওলাদসহ একটি সিন্ডিকেট এ চাঁদা আদায় করছে। রূপগঞ্জ, খিলক্ষেত ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের পকেটেও যাচ্ছে ওই চাঁদার ভাগ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সরকারদলীয় নেতারা। ভাগ পাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশও। ভোলাব তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শকও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। সাতটি স্পটে চাঁদা আদায় নিয়ন্ত্রণ করেন নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

সূত্র মতে, গোলাকান্দাইল স্টেশন থেকে কুড়িল বিশ্বরোড সড়কে ভাড়ায়চালিত ১৫০টি প্রাইভেট কার, মীরেরবাজারে ১২০টি প্রাইভেট কার, চান টেক্সটাইলে ৩০টি প্রাইভেট কার ও বাইপাস রোডে ১৫০টি অটোরিকশা চলাচল করে। প্রতিটি প্রাইভেট কার ও অটোচালককে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে দিতে হয়। এ ছাড়া কোনো কাগজপত্র না থাকায় ফিটনেসবিহীন প্রতিটি প্রাইভেট কার ও অটোচালককে প্রতি মাসে তিন হাজার করে টাকা দিতে হচ্ছে। নতুন কোনো অটোরিকশা বা প্রাইভেট কার রাস্তায় নামাতে ১০-২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। নইলে রাস্তায় গাড়ি নামাতে দেওয়া হয় না।

গোলাকান্দাইল স্ট্যান্ডে প্রাইভেট কার ও অটোরিকশা রাখার জায়গা না থাকায় রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করতে হচ্ছে। তাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিনই তাঁদের এক-দেড় শ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে স্টেশন থেকে গাড়ি চালাতে দেওয়া হয় না। তার ওপর আবার প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে। কোনো চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে গাড়ি চলতে দেওয়া হচ্ছে না। চালকদের একপ্রকার জিম্মি করেই চাঁদাবাজি চালাচ্ছে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তালাল, সুপারভাইজার মাসুম, আয়ুব, আওলাদসহ তাঁদের লোকজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোলাকান্দাইল স্টেশনের এক প্রাইভেট কারচালক জানান, তিনি এ স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালিয়ে পরিবার নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন গাড়ির মালিককে জমার টাকা দেওয়ার পর আবার ১৫০ টাকা করে চাঁদা গুনতে হয়। মালিকের জমা ও চাঁদা দিয়ে হাতে আর তেমন টাকা থাকে না। এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর প্রতি মাসে তিন হাজার করে টাকা দিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

ভাড়ায়চালিত ‘প্রাইভেট কার’ ও অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তবে স্টেশনগুলোতে লাইনম্যানসহ যারা কাজ করছে, তাদের জন্য নাকি নামমাত্র খরচ ওঠানো হয়।

এ বিষয়ে ভোলাব তদন্তকেন্দ্রের ইন্সপেক্টর শাহাদাত বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে চাঁদার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি সঠিক নয়। তবে যারা চাঁদা আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের চাঁদা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য