kalerkantho


ফরিদ হত্যা মামলা

ভূঞাপুরের প্রভাবশালী আসামি আ. লীগ নেতারা পলাতক

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভূঞাপুরের প্রভাবশালী আসামি আ. লীগ নেতারা পলাতক

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলাম ফরিদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও মামলার শীর্ষ আসামিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই শীর্ষ আসামিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি।

গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও অর্থদাতা। পুলিশ বলেছে, শীর্ষ আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, ফরিদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত এক ইউপি সদস্যসহ চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের জবানবন্দিতে ফরিদ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের নায়কদের পরিচয় বেরিয়ে এসেছে। তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করেই ফরিদকে হত্যা করা হয় বলেও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গ্রেপ্তারকৃতরা উল্লেখ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এরপর থেকেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম তোতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আবদুল হামিদ মিয়া ভোলা এবং অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সরকারসহ তাঁদের অনুসারী প্রায় অর্ধশত লোক গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদের গলা কাটা লাশ গত ৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁর নিজ গ্রাম ভারই মধ্যপাড়ার একটি নির্জন পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করা হয়।

আগের রাত সাড়ে ৯টার পর তিনি নিখোঁজ হন। ৬ ডিসেম্বর রকিবুলের ভাই ফজলুল করিম বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে ফজলুল করিম বাদী হয়ে ১৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে একটি সম্পূরক মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম ওরফে তোতা, অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আবদুল হামিদ মিয়া ভোলা, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। মামলা দুটি টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।

ডিবির ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ জানান, ফরিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারি ঘাটাইল উপজেলার আনন্দপাড়া গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মাইনুল ইসলাম মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে পরে অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ভারই গ্রামের মৃত হামিদ তরফদারের ছেলে মকবুল হোসেন তরফদার, আলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরকারের ইটভাটার ম্যানেজার ও তাঁর বডিগার্ড ভারই খরক গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে শওকত হোসেন ওরফে সৈকত, চেয়ারম্যানের অনুসারী ভারই মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নাসির উদ্দিন রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা চারজনই ফরিদ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

ওসি অশোক কুমার সিংহ কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে মতবিরোধ, এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয়েছে রকিবুল ইসলাম ফরিদকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসায় বসে ফরিদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে একাধিকবার বৈঠকও করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন ছয়জন। তাঁদের সঙ্গে হত্যার জন্য দুই লাখ টাকার চুক্তি করা হয়।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলাম ফরিদকে জবাই করে হত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীসহ এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে তারা ২৭ ফেব্রুয়ারি ভূঞাপুর সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশও করেছে।

ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম বলেন, ফরিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবে পার না পায়। আমাদের দাবি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

 


মন্তব্য