kalerkantho


দুস্থ নারীদের কার্ড আটকে রেখেছেন ইউপি মেম্বার!

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুস্থ মহিলাদের ভিজিডির কার্ড আটকে রাখার ঘটনায় এক ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী ওই অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা অনুকা খীসা অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তিনি ফেরার পর পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ আলম ভূইয়া সজীব। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচনায় রয়েছেন।

সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষ ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। এবার দুস্থ মহিলাদের ভিজিডির চাল কার্ড আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

উপজেলায় অভিযোগ করতে আসা বেতছড়ি এলাকার খোদেজা বেগম (কার্ড নম্বর-৩৮২), বানেছা খাতুন (কার্ড নম্বর-৩৭৯, সালেহা বেগম (কার্ড নম্বর-৪২৫), মাহমুদা আক্তার (কার্ড নম্বর-৩৮৩) ও নুর আয়শা পারভীন (কার্ড নম্বর-৩৮০) জানান, সজীব মেম্বার তাঁদের কার্ড আটকে রেখেছেন। এ কারণে তাঁরা চাল তুলতে পারছেন না। খোদেজা বেগম জানান, সজীব মেম্বার তাঁর কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করেছিলেন।

ওই টাকা দিতে না পারায় তাঁর কার্ড দিচ্ছেন না। এ ছাড়া অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিবন্ধী নারী মাহমুদা আক্তার।

আরেক অভিযোগকারী নুর আয়শা পারভীন জানান, সজীব মেম্বার তাঁর কাছ থেকে ভিজিডির কার্ড করে দেওয়ার জন্য দুই হাজার টাকা নিয়েছিলেন। পরে কয়েক দফায় কিছু টাকা ফেরত দিলেও সব টাকা ফেরত পাননি। পারভীনের সন্দেহ, বেশি টাকার বিনিময়ে হয়তো অন্য কাউকে তাঁর কার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

টাকা নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে সজীব মেম্বার জানান, অভিযোগকারীদের অনেকের গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ড রয়েছে। তা ছাড়া তাঁরা দুস্থ হিসেবে ভিজিডির কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত নন। তাই তাঁদের কার্ড আটকে রাখা হয়েছে। এ কার্ডগুলো বাতিলের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সজীব মেম্বার বলেন, ‘তাদের নাম কে বা কারা বাছাই করে চূড়ান্ত করেছিল তা আমার জানা নাই। ’

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রহমান কবীর রতন জানান, বারবার বলার পরও সজীব কার্ডগুলো কেন দিচ্ছে না, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না।

 


মন্তব্য