kalerkantho


রৌমারীতে বখাটেরা বেপরোয়া

আট দিনে পাঁচ নির্যাতন মামলা হয় না থানায়

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রৌমারীর শুধু দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে মার্চের প্রথম আট দিনে নারী নির্যাতনের পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চারজন স্কুল ছাত্রী, আরেকজন দুস্থ নারী।

এসব ঘটনার একটিরও মামলা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিসে মীমাংসার জন্য বাধ্য করা হয়েছে নির্যাতিত পরিবারগুলোকে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। থানায় মামলা না হওয়া এবং অভিযুক্তদের শাস্তি না হওয়ার কারণে বখাটেরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকছেন মহাচিন্তায়।

এদিকে বুধবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সারা দেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। অথচ একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও সেই প্রশাসনই মুখে কলুপ এঁটে বসে থাকে। থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

গত মঙ্গলবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের অল্প দূরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে আটকায় বখাটে শামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বু (২৫)।

এ সময় বখাটে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ওই ছাত্রীর চিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে। দাঁতভাঙ্গা গ্রামের নজিম উদ্দিনের বখাটে ছেলে শামিউল ইসলাম ওরফে জাম্বু এর আগেও স্কুলে যাতায়াতের পথে মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। ওই একই দিনে ভিজিডি কার্ডের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এক দুস্থ নারী ইউপি সদস্যের কাছে গেলে তাঁকে ধর্ষণ করে গাছবাড়ী ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক। এ ঘটনারও কোনো বিচার হয়নি। মেম্বার এলাকার দেওয়ানিদের ম্যানেজ করে ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নির্যাতিত দুস্থ নারী এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন।

গত ৪ মার্চ উপজেলার বাতার গ্রামের দিনমজুর ঘরের মেয়ে দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করে জসিম উদ্দিন (২৫) নামের এক বখাটে। ধর্ষণের পর থেকে মেয়েটি বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে অনশন শুরু করে। বখাটে জসিম উদ্দিন দাঁতভাঙ্গা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে। তিন দিন অনশনে থাকার পর মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ছেলের অভিভাবকরা।

গত ২ মার্চ উপজেলার চেংটাপাড়া গ্রামের দিনমজুর ঘরের মেয়ে অষ্টম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে হাফিজুর রহমান নামের এক বখাটে। এ ব্যাপারে নির্যাতিত পরিবারটি থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। মামলা না হওয়ায় বখাটে হাফিজুর রহমান অসহায় পরিবারটিকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।

গত ১ মার্চ দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে স্কুলে যাওয়ার পথে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় পাষাণ মিয়া নামের এক বখাটে। এ সময় শিশুটি বইখাতা ফেলে দৌড়ে স্কুলে গিয়ে উপস্থিত হয়ে ভয়ে কাঁপতে থাকে। এ ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বখাটের পরিবার থেকে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা নিয়ে বিচারের নামে ঘটনা ধামাচাপা দেন। নির্যাতিত পরিবারকে থানায়ও যেতে দেননি স্কুল শিক্ষকরা। ঘটনার পর থেকে মেয়েটি ভয়ে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

নির্যাতনের ওই সব ঘটনায় মামলা হয়নি কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে রৌমারী থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে না এলে কিভাবে মামলা করব? তা ছাড়া কেউ আমাদের ওই সব ঘটনা জানায়নি। শুধু চেংটাপাড়ার ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। সেটার তদন্ত চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা করা হবে। ’


মন্তব্য