kalerkantho


ঋণের বোঝা, স্বামী কর্মহীন

বদরগঞ্জে সন্তানকে হত্যা মায়ের আত্মহননচেষ্টা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ঋণের বোঝা! এ অবস্থায়ও স্বামী কর্মহীন অবস্থায় ঘরে বসে থাকেন। এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীতে প্রায়ই ঝগড়া হতো। কিন্তু এভাবে আর পারছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১ মাসের সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন চার সন্তানের মা ইনছেনা বেগম। তবে নিজে বেঁচে গেলেও শিশুটি মারা গেছে। গত মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের নয়াডাঙাপাড়ায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ের পর দুলাল মিয়া রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। এর মধ্যে তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম হয়। দিন দিন খরচ বাড়তে থাকলে সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। এ অবস্থায় দুলাল মিয়া রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে শ্বশুরালয়ে বেকার বসে থাকেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ইনছেনা একটি সেলাই মেশিন কিনে বাড়িতে জামা-কাপড় তৈরি করে ফেরি করে বিক্রি শুরু করেন।

তাতেও চলছিল না। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে গত বছরের জুনে ২৪ হাজার টাকা ঋণ নেন ইনছেনা। ওই টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। কিন্তু সংসারে খরচের জোগান দিতে গিয়ে কিছুদিনের মধ্যে ওই টাকাও শেষ হয়ে যায়। প্রতি সোমবার ৮০০ টাকা কিস্তি দিতে পারছিলেন না তিনি। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।

গত সোমবার সাপ্তাহিক কিস্তি নিতে ইনছেনার বাড়িতে যান ব্যাংকের মাঠকর্মী পরিতোষ চন্দ্র রায়। কিস্তির টাকার জন্য দীর্ঘ সময় বাড়িতে অবস্থান করলে পাশের বাড়ি থেকে ধার করে ওই দিনের কিস্তি পরিশোধ করেন ইনছেনা। পরে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বেকারত্ব নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। কিস্তির টাকা ও চার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন ইনছেনা।

ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার দুপুরে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে সবার অজান্তে প্রথমে ১১ মাসের সন্তান রিফাত বাবুর মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়ে নিজেও তা পান করেন। টের পেয়ে প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় মা ও ছেলেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ১০টার দিকে শিশুটি মারা যায়। তবে হাসপাতালে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ইনছেনার জ্ঞান ফেরেনি।

ঝগড়ার কথা অস্বীকার করে দুলাল মিয়া বলেন, ‘সংসারে যতই অভাব থাকুক। সে কেন আমার অবুঝ সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে দিল। এ কারণে আমি তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছি। ’

দামোরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এদিকে দুলাল মিয়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য