kalerkantho


বাগেরহাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

আগের তালিকার ১৫০০ নাম বাদ

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আগের তালিকার ১৫০০ নাম বাদ

বাগেরহাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রথমে যে তালিকা প্রস্তুত করে কার্ডধারী হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে তা থেকে এক হাজার ৪৯৯টি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় তিন মাস (সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর) চাল বিতরণের সময় ওই তালিকা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এ অবস্থায় যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা করা হয়েছে। তবে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কার্ডধারীর সংখ্যা আগের মতোই রয়েছে। কর্মসূচির নীতিমালাবহির্ভূত নাম নতুন তালিকায় থাকলে কার্ড বাতিল করে সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে বাগেরহাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মধ্যে দুই মাসের (মার্চ ও এপ্রিল) চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে চাল তুলতে পারবে।

সূত্র জানায়, সরকার ইউনিয়নপর্যায়ে কর্মাভাবকালীন (সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ও মার্চ-এপ্রিল) হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করে। ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নীতিমালা-২০১৬’ অনুযায়ী ইউনিয়নপর্যায়ে কমিটি হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে এবং উপজেলা কমিটি তা অনুমোদন দেয়। এরপর সুবিধাভোগীদের কার্ড দেওয়া হয়। বাগেরহাটের ৯টি উপজেলায় ৮৯ হাজার ৪০২টি পরিবারকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।

গত সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয় প্রতিটি পরিবারের মধ্যে। চাল বিতরণকালে বিভিন্ন উপজেলায় তালিকা প্রণয়ন নিয়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, ওজনে কম দেওয়াসহ নানা অভিযোগ ওঠে। পরে জেলা খাদ্য বিভাগ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়। কোনো কোনো ইউনিয়নে বিলম্বে চাল বিতরণ শুরু হয়।

বাগেরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম শহীদুল হক জানান, চাল বিতরণকালে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে তালিকা সংশোধন করা হয়। তালিকা নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ বা আপত্তি আছে কি না জানতে ও সংশোধনের লক্ষ্যে ইউনিয়নপর্যায়ে প্রচার চালানো হয়। যাচাই-বাছাই করে নীতিমালাবহির্ভূত হওয়ায় আগের তালিকা থেকে এক হাজার ৪৯৯টি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন তালিকায় কার্ডধারীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৪০২টি ঠিক রেখে নীতিমালা অনুযায়ী নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি মার্চ ও এপ্রিলে চাল বিতরণের সময় যদি ভিজিডি কার্ডধারী অথবা নীতিমালাবহির্ভূত কোনো কার্ডধারী পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে। এবার ৩০ কেজি করে চাল বস্তাভর্তি করে মুখ সেলাই করার পর বিতরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ডিলারদের মাধ্যমে শুক্রবার থেকে শুরু হবে এ কার্যক্রম।

শহীদুল হক আরো জানান, ২০১৬ সালের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নীতিমালা সংশোধন এবং সংযোজন করে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি-২০১৭’ খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য খাদ্য বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই খসড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে ইউনিয়ন খাদ্যবান্ধব কমিটি এবং জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে জেলা খাদ্যবান্ধব মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। আরো কিছু তথ্য ও নিয়ম সংযোজনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। ২০১৬ সালের খাদ্যবান্ধব নীতিমালা অনুসারে তালিকা প্রণয়নের জন্য ইউনিয়ন কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একজন সদস্য ছিলেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা প্রণয়ন ও চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আর্জু রহমান, কাড়াপাড়া ইউনিয়নের শেখ সেলিমসহ কয়েকজন ডিলার জানান, নীতিমালা অনুসারে তাঁরা আট টাকা ৫০ পয়সা কেজি দরে চাল কিনে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। চাল পরিবহন, খালাস ও বোঝাই, শ্রমিক খরচ এবং ঘর ভাড়া দিয়ে তাঁদের লভ্যাংশ থাকে না বললেই চলে। তাঁরা সরকারের কাছে কেজিপ্রতি এক টাকা কমিশন বাড়ানোর দাবি জানান।

সুবিধাভোগীরা জানায়, প্রথম তিন মাসে কোনো কোনো ডিলারের কাছ থেকে চাল উত্তোলনের পর বাড়িতে নিয়ে ওজনে কিছু কম পাওয়া গেছে। এবার বস্তার মুখ সেলাই করে দিলে চালের পরিমাণ ঠিক পাওয়া যাবে বলে তাদের আশা। পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে তারা।

 


মন্তব্য