kalerkantho


কিশোরগঞ্জে তিন পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার এক এসআই ও দুই কনস্টেবল নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে নিকলীর দামপাড়ার দুই ব্যবসায়ী বন্ধুকে কটিয়াদীর চান্দপুর সড়ক থেকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাঁরা একজনের কাছে থাকা ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। উপরন্তু ইয়াবা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছে আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন তাঁরা। পরিবার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মোটরসাইকেল চুরির মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দুজনকে আদালতে সোপর্দ করেন অভিযুক্ত এসআই। টানা ২০ দিন কথিত চুরির মামলায় হাজত খাটার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি জামিন পান লিটন মিয়া ও শরীফ।

ওই ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী ১ নম্বর বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ, একই থানার আরো দুই পুলিশ কনস্টেবল কৃষ্ণ ও আজাদকে আসামি করে মামলাটি করেন লিটন মিয়া।

মামলার কৌঁসুলি আসাদুল হক লিটন কালের কণ্ঠকে জানান, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল মাহমুদ সিআইডিকে মামলাটির তদন্তভার দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ১৭ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।

ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী লিটন জানান, পুলিশ টাকার লোভে মিথ্যা চুরির মামলায় তাঁদের টানা ২০ দিন হাজত খাটিয়েছে। তা ছাড়া তাঁদের দুজনকে কটিয়াদীর চান্দপুর রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গেলেও এসআই আজাদ আদালতে কিশোরগঞ্জ সদরের নীলগঞ্জ থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে বিবরণ দেন।

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি মামলাটি করেছেন।

এসআই আবুল কালাম আজাদ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। বাদী লিটনকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে লিটনকে চুরির মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় সে মোটরসাইকেল চুরি করে। ’ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েই লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।


মন্তব্য