kalerkantho


৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সোমেন চন্দের স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রগতিশীল লেখক ও বিপ্লবী সোমেন চন্দের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মাত্র ২০ বছর বয়সে ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আততায়ীর হাতে শহীদ হন বিপ্লবী এই সাহিত্যিক। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে স্মৃতিবিজড়িত তাঁর পৈতৃক বাড়িটি এখন দখল হয়ে গেছে। সংরক্ষণের অভাবে নিশ্চিহ্নের পথে তাঁর অন্যান্য স্মৃতি। এ অবস্থায় স্থানীয়রা সোমেন চন্দের স্মৃতি সংরক্ষণে দাবি জানিয়েছে। সোমেন চন্দ ১৯২০ সালের ২৪ মে তত্কালীন ঢাকা জেলার টঙ্গী থানার আশুলিয়া গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম নরেন্দ্র কুমার ও মা হীরণ বালা।

সোমেন চন্দ ঢাকা মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন, কিন্তু খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি। স্কুলজীবন থেকেই গল্প লিখতেন। ১৯৩৭ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায় সোমেনের প্রথম গল্প ‘শিশু তপন’। তিনি প্রগতি লেখক সংঘে যোগদান করেন এবং মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর লেখা উপন্যাস বন্যা। ১৯৪০ সালে তাঁর বনস্পতি গল্পটি ক্রান্তি পত্রিকায় ছাপা হয়। তাঁর ইঁদুর গল্পটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমেন চন্দ হত্যা-পরবর্তী তাঁর স্বজনদের বেশির ভাগই ভারতে চলে যায়। ফলে তাঁদের বেশির ভাগ জমি ক ও খ তফসিলভুক্ত হয়ে যায়। এই সুযোগে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী সেই জমি জোর করে দখলে নিয়েছে। একইভাবে প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে মহান এই ব্যক্তির পৈতৃক অর্ধশতাধিক একর জমি। এখন তাঁদের উত্তরাধিকারদের কয়েকজন বাপ-দাদার ভিটায় রয়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

বিপ্লবী সাহিত্যিক সোমেন চন্দের ভাতিজা আশীষ কুমার বলেন, ‘অনেক দূরদূরান্ত থেকে লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা ওনাকে জানতে বাড়িতে আসেন, কিন্তু তেমন কোনো স্মৃতিচিহ্ন দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। ’

 


মন্তব্য