kalerkantho

১ম ক লা ম

চার পথশিশু

জামালপুর প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চার ভাইবোনের মধ্যে বড়টির বয়স ১১ বছর। নাম সালাউদ্দিন। ওর কাঁধেই তিন ভাইবোনের খাবার জোগানোর দায়িত্ব। দোকানপাট, মানুষের বাড়ি-বাড়ি চেয়েচিন্তে যা পায় তা দিয়ে কোনো রকমে জীবন চলে ওদের। ওদের বাবা তমির উদ্দিন একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গোছের মানুষ। সন্তানদের খোঁজ নেন না তিনি। সপ্তাহে দু-এক দিন রিকশা চালিয়ে যা রোজগার করেন তাতে নিজেরই পেট চলে না। মা সেলিনা বেগম পুরোপুরি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। সংসার ভুলে ঘুরে বেড়ান রাস্তায় রাস্তায়। এমন অবস্থায় ওই চার পথশিশুকে দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তির পথ দেখাতে এগিয়ে এলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান। তিনি ওই শিশুদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।

তমির উদ্দিন তাঁর পরিবার নিয়ে জামালপুর শহরের মুসলিমাবাদ এলাকা থাকেন। তাঁর চার সন্তান সালাউদ্দিন, স্বাধীন, ইকবাল ও মেঘলা। বড়টির বয়স ১১ আর সবচেয়ে ছোটটির বয়স ছয় বছর। সারা দিন ওরা রাস্তাঘাটে ঘুরে লোকজনের কাছে হাত পেতে যা পায় তা দিয়েই কোনো রকম বেঁচে আছে। যেদিন খাবার জোটে না সেদিন না খেয়েই কাটে ওদের। থাকারও তেমন জায়গা নেই। অভাবের তাড়নায় ওদের ছাপড়া ঘরের চালের টিনও বিক্রি করে দিয়েছেন অর্ধপাগল বাবা। এ বছর পুরো শীত কেটেছে খোলা আকাশের নিচে।

চার শিশুর জীবনের এ কাহিনী জানতে পারেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রাসেল সাবরিন। তাঁরা গত সোমবার বিকেলে শহরের মুসলিমাবাদ এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা ওই চার শিশু ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শাহাবুদ্দিন খান ওই পরিবারটির পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেন।


মন্তব্য